Mental health মনের যত্ন

অতিরিক্ত পরনির্ভরতা হতে পারে  ডিপেন্ডেন্ট পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার (Dependent Personality Disorder)

সৌমাল্য যখন খুব ছোট ছিল এক মুহূর্ত মাকে চোখের আড়াল করতে চাইত না । স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় সমস্যা ।  ছোট্ট থেকে মা-এর তত্ত্বাবধানে বড় হওয়ার পর স্কুলে গিয়ে সৌমাল্যকে যখন সমস্ত কাজ একা একা করতে হত তখন থেকেই  সমস্যার শুরু ।  তাকে শিক্ষকরা কিছু না নির্দেশ দিলে সে লেখাপড়া বা অন্য কাজ করতে চাইত না । এই পরিস্থিতিতে ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছিল সে । সমস্যার গুরুত্ব বুঝে সৌমাল্যের মা-বাবা পারিবারিক চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে মনোবিদের কাছে নিয়ে যান ।  সেখানেই সমস্ত কারণ স্পষ্ট হয়ে যায় । মনোবিদ জানান, সৌমাল্য  ডিপেন্ডেন্ট পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারের (Dependent Personality Disorder) মতো  একটি সমস্যায় ভুগছে ।

ডিপেন্ডেন্ট পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার কী এর কারণ ?

সাধারণত পুরুষ ও মহিলাদের উভয়ক্ষেত্রে ডিপেন্ডেন্ট পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার লক্ষ্য করা গিয়েছে । এই মানসিক সমস্যার ফলে  অন্য ব্যক্তির উপর একটি ব্যাপক মানসিক নির্ভরতা তৈরি হয় যায় । নিজে থেকে একা একা কোনও কাজ করতে পারে না । DPD-র রোগীরা সাধারণত তাদের জীবনে যে সিদ্ধান্তগুলি নিতে হয় সে ব্যাপারে নিজের প্রতি আস্থা রাখতে পারে না এবং তারজন্য অন্যদের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে । তাই এই রোগটির নাম  ডিপেন্ডেন্ট পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার  বা  DPD । দেখা গিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে সেপারেশন অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার থেকে অনেক সময় ডিপেন্ডেন্ট পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারে ভুগতে শুরু করেন কোনও ব্যক্তি । আবার কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি ডিপেন্ডেন্ট পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার তৈরি হয় । মনোবিদদের মতে, এই সমস্যাটিতে যারা ভোগেন তাদের ক্ষেত্রে এর সূচনা কিন্তু শিশুকাল থেকেই দেখা দিতে থাকে ।

শৈশব ট্রমা: যেসব শিশু, শিশু নির্যাতন (মৌখিক অপব্যবহারসহ) বা অবহেলার সম্মুখীন হয়েছে তাদের DPD হতে পারে । এটি এমন লোকদেরও প্রভাবিত করতে পারে যারা শৈশবকালে কোনও মারণ রোগের  সম্মুখীন হয়েছিল ।

পারিবারিক ইতিহাস: পরিবারের একজন সদস্য যার DPD বা অন্য কোনো উদ্বেগজনিত ব্যাধি রয়েছে তার DPD নির্ণয়ের সম্ভাবনা বেশি হতে পারে ।

কিছু সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় বা পারিবারিক আচরণ: কিছু পরিবারের নিজস্ব সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় অনুশীলনের কারণে DPD তৈরি হতে পারে যা কর্তৃত্বের উপর নির্ভরতার জোর দেয় ।

নির্ভরশীল ব্যক্তিত্বের ব্যাধি (Dependent Personality Disorder)-এর উপসর্গ ?

DPD-র কিছু অন্যান্য সাধারণ লক্ষণ হল :

একা সিদ্ধান্ত গ্রহণে অসুবিধা হয় ;

অত্যন্ত প্যাসিভ প্রকৃতির হয়ে পড়ে ;

অন্যদের সঙ্গে কোনও বিষয় নিয়ে অসম্মতি বা বিতর্ক হলে তা প্রকাশ করতে অনিচ্ছা ;

তাদের ব্যক্তিগত দায়িত্ব উপেক্ষা করা ;

একা থাকা;

প্রতিবাদ করতে ভয় পাওয়া;

যাদের উপর তারা নির্ভরশীল তাদের হারাতে ভয়;

সহজেই সমালোচিত হতে পারে এমন অনুভব করা ।

এই ধরণের রোগীদের যেকোনো কাজ বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এদের একজন গাইড বা ক্যাপ্টেন দরকার পড়ে । তাদের নির্দেশমতো চললে এদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে । এই ধরণের পার্সোনালিটি যাদের মধ্যে লক্ষ্য করা যায় তারা কিন্তু তাদের জীবনের সেই ক্যাপ্টেন বা গাইডের কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে থাকে ।  এমনকি সেই গাইড বা ক্যাপ্টেন  ভুল বললেও সেটা তারা স্বীকার  করে না । ভুলকেই ঠিক বলে মেনে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায় তাদের মধ্যে ।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top