Mental health মনের যত্ন

অ্যাগোরাফোবিয়া (AGORAPHOBIA) কী ? কীভাবে কাটিয়ে উঠবেন এই ভয়

অ্যাগোরাফোবিয়া (AGORAPHOBIA) কী?

শর্মিলাকে কর্মসূত্রে প্রায়শঃই ট্যুর-এ যেতে হচ্ছে । চাকরির শুরুতে ট্যুর না থাকলেও সম্প্রতি একটা প্রোমোশনের ফলে দায়িত্ব বেড়েছে । কিন্তু অফিসের কাজে ট্রেনে বা প্লেনে চড়ার এক-দু’বারের মধ্যেই একটা ভয় মাথা চাড়া দিচ্ছে শর্মিলার মনে ।

প্লেনে চাপলেই কেমন একটা দমবন্ধ হয়ে আসে ।  আবার ট্রেনে  সফরকালে কোনও অন্ধকার টানেলের মধ্যে দিয়ে ট্রেনটা গেলে এক ধরনের ভয় গ্রাস করে নিচ্ছে তাঁকে ।  প্রথমে সমস্যাটায় আমল না দিলেও ক্রমাগত সেই ভয় বাড়ছে ।

এখন একা  ট্যুরের নাম শুনলেই কেন জানি না একটা চাপা ভয় মনকে গ্রাস করছে বছর ২৭-এর তরুণী শর্মিলার ।  সেই ভয় থেকে মনে হচ্ছে চাকরি থেকে কবে রেহাই মিলবে । মনে মনে সে  ঠিকই করে নিয়েছে যে আর না, এবার চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে এই সমস্যা মিটিয়ে ফেলবে ।

শর্মিলার  যে সমস্যা হয়েছে, চিকিৎসা পরিভাষায় এর নাম অ্যাগোরাফোবিয়া (AGORAPHOBIA)।

এটি একটি মানসিক সমস্যা এবং তার যথার্থ চিকিৎসা প্রয়োজন । এই রোগে আক্রান্ত এবং রোগীর কাছের মানুষের তা মাথায় রাখা দরকার । এই সমস্যা মূলত বেশি মেয়েদের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে ।  মনোবিদরা জানাচ্ছেন, মহিলাদের ২০- ৩০ বছরের মধ্যেই এই রোগটির প্রকাশ হয় ।  এই রোগটিতে কেউ ভুগলে তাঁদের মধ্যে একটা ভয় তৈরি হয় ।

সেই ভয় থেকেই অপছন্দের কোনও পরিস্থিতি তৈরি হলে তা সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয় । সঠিক সময়ে চিকিৎসা বা কাউন্সেলিং না করলে এটা  ক্রনিক আকার ধারণ করতে পারে ।  এই রোগটা বাড়তে দেওয়ার আগে মনোবিদের পরামর্শ অত্যন্ত জরুরি ।

অ্যাগোরাফোবিয়া কয় প্রকার ?

মূলত পাঁচ রকমের ভয় থেকে অ্যাগোরাফোবিয়ার সৃষ্টি হয় ।   যানবাহনে উঠে ভয়, খোলা জায়গায় থাকার ভয়, বদ্ধ জায়গায় থাকার ভয়, ভিড়ে লাইনে দাঁড়ানোর ভয় আর ঘরের বাইরে একা থাকার ভয় । মোট দু-ধরণের অ্যাগোরাফোবিয়া হয় ।

১. অ্যাগোরাফোবিয়ার সঙ্গে প্যানিক যুক্ত হয়

২. প্যানিকবিহীন  অ্যাগোরাফোবিয়া

সঠিক সময়ে চিকিৎসা বা কাউন্সেলিং শুরু না হলে এমন একটা পর্যায় চলে আসতে  পারে যেখানে রোগী রাস্তায় বেরোতে পর্যন্ত ভয় পেতে পারেন । সেই পরিস্থিতি এলে একা মোকাবিলা করতে খুব ভয় পান । সঙ্গে কেউ থাকলে ভয়টা কিছুটা কমে যায় ।

রোগ নির্ণয় কিভাবে হয় ?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই psychometric টেস্টের মাধ্যমে এই রোগ নির্ণয় করেন মনোবিদরা । এই সাইকোলজিক্যাল টেস্টের মাধ্যমে রোগীর মধ্যে কতটা ভয় বা উদ্বেগ রয়েছে তাও নির্ধারণ করা যায় । টেস্টের ফলাফলের পরই চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব । সকলের ক্ষেত্রে ওষুধের প্রয়োজন পড়ে না । কারোর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র কাউন্সেলিং-এর মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব ।

গবেষক-চিকিৎসকরা বলছেন, উদ্বেগ কমানোর জন্য মনস্তাত্ত্বিক সাহায্য খুব কাজে দেয় । আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মান বাড়িয়ে তুলতে পারলে ভয় এমনিতেই অনেকটা কমে যায় ।  তাই পরিচিত কেউ এমন সমস্যায় ভুগলে তাঁকে অবশ্যই মনোবিদের পরামর্শ নিতে বলুন ।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top