Diet - ডায়েট

ওজন কমাতে ও শরীর ফিট রাখতে নিশ্চিন্তে খান ওটস (Oats)

স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে ওটসের (Oats) কিন্তু যথেষ্ট কদর রয়েছে । ফাইবার বিটা গ্লুকোনসহ ফাইবার সমৃদ্ধ এই খাদ্যশস্যটি ‘ম্যাজিক ফুড’ হিসেবে পরিচিত পুষ্টিবিদদের (Nutritionist) কাছে । ওটস হল একপ্রকারের খাদ্যশস্য, যার মূলত ঠান্ডা আবহাওয়ায় ভাল ফলন হয় । ওটসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, আয়রন, প্রোটিন, ভিটামিনসহ একগুচ্ছ পুষ্টি উপাদান । তাই সুষম খাদ্য তালিকায় ওটসের জায়গা কিন্তু অন্যান্য খাদ্যশস্যের মধ্যে বেশ খানিকটা ওপরের দিকেই । পুষ্টিবিদদের মতে, ওটস‌ খাওয়ার জন্য কোনও বিশেষ ধরাবাঁধা সময় হয় না । ব্রেকফাস্ট (Breakfast) কিংবা লাঞ্চ অথবা ডিনারে প্রতিদিন এক বাটি ওটস  খেলে কমবে ওজন, দূর হবে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও ।

কেন খাবেন ?

১. ওটসের (Oats) গুণাগুণ নিয়ে আলোচনা করতে বসলে তা শেষ হওয়ার নয় । এককাপ রান্না করা ওটমিলে প্রায় ১৫০ ক্যালোরি, চার গ্রাম ফাইবার এবং ছয় গ্রাম প্রোটিন থাকে ।

২. ওজন কমিয়ে ঝরঝরে হতে চাইলে খাবারের তালিকায় রাখুন ওটস (Oats) দিয়ে তৈরি যেকোনো একটি পদ ।  ওটস দিয়ে তৈরি খাবার অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেটে থাকে । ফলে বারবার খিদে পায় না । তাই দ্রুত ওজন যাঁরা কমাতে চেষ্টা করছেন তারা ওটস খান নির্ভয়ে ।

৩. এই খাবার অতিরিক্ত ফাইবারযুক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্যের উপকারও হয় অঢেল । যাঁরা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছেন তাঁদের ওটস (Oats)খেলে এই সমস্যা দূর হবে । এছাড়াও ওটসে থাকা ফাইবার বদহজম থেকে শরীরকে রক্ষা করে ।

৪.  ওটসের (Oats) মধ্যে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার আর নানা রকমের খনিজ (Minerals) থাকে । ওটস রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে ।

৫. ওটসে ট্রিপটোফান (Tryptophan) নামক একটি অ্যামাইনো অ্যাসিডের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে । যার প্রভাব আমাদের স্নায়ুর  উপরে পড়ে । তাতে হাল্কা আচ্ছন্ন ভাব আসে শরীরে । তাই পেটভরে ওটস খেয়ে বিশ্রাম নিলে বেশ তাড়াতাড়ি ঘুম এসে যায় ।

৬. ওজন নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও ওটস নানারকম অসুখ যেমন ব্রেস্ট ক্যানসার‚ টাইপ -২ ডায়াবেটিস‚ হার্টের অসুখ  ও ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে ।

কীভাবে খাবেন ?

সকালে ব্রেকফাস্টে দুধের সঙ্গে ওটস খেতে পারেন । তার মধ্যে কুচি করে দিন পছন্দ মত কিসমিস, অ্যামন্ড, আখরোট, খেজুর |

ব্রেকফাস্টে ওটস টকদই  দিয়েও খেতে পারেন । সঙ্গে  দিন খুব ছোট ছোট কুচি করে আপেল বা খেজুর । চাইলে দিতে পারেন স্ট্রবেরি আর ব্লু-বেরিও । তবে ভুল করেও চিনি মেশাবেন না । চাইলে মধু বা  মেপল সিরাপ খেতে পারেন ।

দিনের বেলায় ওটস খেতে না চাইলে রাতে ওটস এবং সবজি দিয়ে খিচুড়ি খাওয়া  যেতে পারে । চাইলে ওটস (Oats)গুঁড়ো করে আটার মতো মেখে রুটি করেও সবজি দিয়ে খেতে পারেন ।

এছাড়াও সন্ধ্যের জলখাবারে ওটস দিয়ে ওমলেট বানিয়ে খেতে পারেন । ওটস গুঁড়ো করে তাতে দুধ ডিম ও পেঁয়াজ, ধনেপাতা, টম্যাটো, নুন, লঙ্কা ও মসলা দিয়ে একসঙ্গে মিশ্রণ বানিয়ে অল্প তেলে ওমলেট বানিয়ে খেতে পারেন ।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top