Mental health মনের যত্ন

মাথাঘোরা বা ভার্টিগো (Vertigo) কি মানসিক রোগ ?

মাথাঘোরা বা ভার্টিগো । হাঁটার সময় বেসামাল হয়ে যাওয়া সাধারণত ভার্টিগো (Vertigo)-র লক্ষণ । আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যাঁরা একটু মাথা নাড়লেই মাথা ঘোরে । কিংবা উঁচু কোনও জায়গায় উঠলে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয় । এছাড়াও যাঁদের ভার্টিগোর সমস্যা আছে তাঁদের মাথা ঘোরা ছাড়াও বমিবমি ভাব অথবা double vision (একটি জিনিসকে দু’টি দেখা) হতে পারে । এক্ষেত্রে কিছু লোকের শ্রবণশক্তিও হ্রাস পায় এবং ভার্টিগোর কারণের ওপর ভিত্তি করে কানে অস্বাভাবিক শব্দ শোনা (বিশেষ করে শোঁ শোঁ শব্দ বা বায়ুপ্রবাহের শব্দ), এছাড়া ঘন্টা বাজার শব্দ, বাঁশি বাজার শব্দ কিংবা গুনগুন শব্দও ক্রমাগত কানে আসতে থাকে ।

Vertigo কখনও বাড়ে আবার কোনও কোনও সময় কমেও যেতে পারে । কারোর ক্ষেত্রে এটা আজীবনের সঙ্গী থাকে । কেউ আবার বিশেষ বিশেষ সময়ে ভার্টিগোতে ভুগেছেন, আবার তা সেরে গিয়েছে । শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে ভার্টিগো হতে পারে এটা আমরা অনেকেই জানি । কিন্তু মনের কারণেও যে অনেক সময় মাথা ঘুরতে পারে তা আমরা চট করে বুঝে উঠতে পারি না । মনের নানা রকম সমস্যার সঙ্গে কিন্তু মাথাঘোরার একটা সম্পর্ক আছে । কী সেই সম্পর্ক জানাচ্ছেন, বিশিষ্ট হেলথ সাইকোলজিস্ট ডঃ তন্ময় মিত্র ।

১. অন্যান্য শারীরিক সমস্যা থেকে ভার্টিগো হলেও  Psychogenic Vertigo প্রধানত মানসিক সমস্যা থেকে তৈরি হয় । প্রায় ৪০ শতাংশ ভার্টিগোই Psychogenic অর্থাৎ মানসিক কারণেই সেই ব্যক্তি ভার্টিগোর শিকার হচ্ছেন ।

২. হাইপার ভেন্টিলেশন anxiety-র সঙ্গেও এই মাথাঘোরার সম্পর্ক আছে ।

৩. পোস্ট-ট্রম্যাটিক ভার্টিগোতে অনেকে ভুগতে পারেন । যখন আক্রান্ত ব্যক্তি কোনও বড়সড় দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়ে সেখান থেকে ফিরে আসেন তখন সেই দুর্ঘটনার কথা মনে পড়লেই মাথা ঘোরার সমস্যা হয় ।  একেই পোস্ট-ট্রম্যাটিক ভার্টিগো বলে ।

ডঃ তন্ময় মিত্র জানালেন, এমন সময় তাঁদের কাছে অনেক রোগী আসেন যাঁরা হঠাৎ করে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে বসতে গিয়ে দেখেন মাথা ঘুরছে কিংবা মাথা নাড়াতে গিয়ে মাথা সোজা করতে পারছেন না ।  এতটাই মাথা বনবন করে ঘুরছে । তারা সকলেই ভেবে নেন  হয়তো মাথার ভিতরে গুরুতর রোগ বাসা বেঁধে ফেলেছে । পরে তাঁদের বুঝিয়ে বলতে হয় যে, এই মাথা ঘোরার অন্যতম কারণ anxiety ।

৪. আবার অনেকে আছেন যাঁদের রাস্তায় বেরোতে ভয় লাগে । অ্যাগোরাফোবিয়ায় (agoraphobia) যাঁরা ভোগেন তাঁরা ভিড়ের মধ্যে যেতে ভয় পান বা রাস্তাঘাটে যেতে ভয় পান ।  এদের মধ্যেও ভার্টিগোর লক্ষণগুলি ফুটে ওঠে ।

আসন্ন কোনও বিপদের সম্ভাবনা আসছে এটা ভেবে নিয়ে sensation বা anxiety বেড়ে যেতে থাকে ।  অ্যাগোরাফোবিয়ায় যাঁরা ভোগেন,  একবার কোথাও গিয়ে মাথা ঘোরার অভিজ্ঞতা শুরু হলে বারবার সেই সমস্যা দেখা দিয়ে পারে ।

৫. আমরা যখন স্ট্রেসে ভুগি তখন হিস্টামিন নাম একটি স্ট্রেস হরমোন নির্গত হয় ।  তারসঙ্গে এই ভার্টিগোর একটা সম্পর্ক রয়েছে । এছাড়াও অ্যালকোহল কিন্তু ভার্টিগোর সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে । যাঁরা ভার্টিগোতে ভুগছেন  চা বা কফির ক্ষেত্রেও রাশ টানা দরকার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা ।

মাথাঘোরা কাটিয়ে ওঠার জন্য অনেকসময় ব্যায়াম বা এক্সারসাইজ কাজে দেয় ।  এই রোগ কাটিয়ে ওঠার জন্য মিউজিক থেরাপিও বেশ ফলপ্রসূ ।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top