Mental health মনের যত্ন

সন্তান যখন লাজুক, কীভাবে কাটাবেন এই অভ্যেস

ছোট্ট অভিজয় বরাবরই আর পাঁচটা বাচ্চার থেকে আলাদা । স্কুলে বা পার্কে যখনই বন্ধুবান্ধবরা খেলাধুলো করে ঠিক তখনই লাজুক অভিজয় সেখান থেকে সরে এসে একা একা খেলা করে ।

আবার সৌজন্যার খেলতে ভালো লাগে না বরং সে ঘরে বসে আপনমনে গল্পের বই পড়তে ভালোবাসে । বাইরের হৈ-হট্টগোল ছোট্টবেলা থেকেই পছন্দ নয় । ক্লাস ২-এর ছাত্র শুভান বন্ধুদের সঙ্গে আঁকার ক্লাসে যাওয়ার চেয়ে বাড়িতে বসেই নিজের মনে রং-পেন্সিল নিয়ে  ড্রইং করতে সে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে ।

এদের মতোই কি চট করে মিশতে চাইছে না কিংবা কখনও মন খুলে কথা বলতে পারছে না আপনার সন্তান ? আপনার বাড়ির খুদেটি কি বেশিরভাগ সময় একা একা থাকতে পছন্দ করে, চুপচাপ থাকে ?

অনেক বাচ্চাই নিজের চেনা পরিবেশে চটপটে, প্রাণোচ্ছল, কিন্তু বাইরে বা স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে  খেলতে যাওয়া, অন্যদের সঙ্গে গল্প করার সময় নিজেকে গুটিয়ে রাখছে । সন্তান যদি নিজের গন্ডির বাইরে গিয়ে মিশতে না পারে তবে তা নিয়ে চিন্তার শেষ থাকে না মা-বাবার ।

আবার এটাও সত্যি যে, সন্তানের মনের হালহদিশ সবসময় টের পান না মা-বাবা । আর তাই সন্তান অন্যদের থেকে পিছিয়ে পড়ছে এই ভয়টাও সব মা-বাবাকেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে তোলে ।

সন্তান লাজুক হলে কীভাবে সামলাবেন পরিস্থিতি :

জীবনে চলার পথে আমাদের বেশ খানিকটা দক্ষতার প্রয়োজন হয় । তারমধ্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি হচ্ছে মানুষের সঙ্গে ভাবের আদান-প্রদানের দক্ষতা । যখন বাচ্চারা পরিবারের সদস্যদের সামনে  নিজেকে প্রকাশ করে তখন থেকেই সেই দক্ষতা অর্জন করতে থাকে সে ।  আর এটা  শিশুকাল থেকেই তৈরি করার চেষ্টা করতে হয় বাড়ির বড়দের ।

এক্ষেত্রে বড়দের দায়িত্ব হচ্ছে শিশুদের আবেগ, চাহিদা, মনোভাব, চিন্তাধারাগুলো বুঝে তাকে সুন্দরভাবে নিজেকে প্রকাশ করার সুযোগ দেওয়া । যা আপনার সন্তান ভালোবেসে নিজে থেকে করতে চায় তাতে ওকে উৎসাহ দিন সবরকমভাবে । ওকে  নিজের জগতে থাকতে দিন । এতে তাদের কল্পনাশক্তি বাড়বে ।

আপনার সন্তান লাজুক সেটা আপনি জানেন । এই বিষয়টি বাইরে ওর সামনে বারবার বলবেন না ।  এতে ওর আত্মবিশ্বাস আরও কমবে ।

আমরা হয়তো টেরই পাই না যে, বাচ্চাদের মনকেও ঘিরে ধরতে পারে অবসাদ, যদি না সে কারোর সঙ্গে সহজে মিশতে না পারে । মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা শিশু মনের খেয়াল বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয় । এক্ষেত্রে আপনাকেই সন্তানকে সাহস দিতে হবে ।

যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে আপনার সন্তান স্বাচ্ছন্দ্য বোধ না করলে সকলের সামনে তাকে জোর করে কথা বলাবেন না ।  সন্তানকে বকাবকি না করে বরং তার কাছে গিয়ে জানার চেষ্টা করুন কিসে অসুবিধা হচ্ছে । যত আপনি ওকে বারবার মনে করিয়ে দেবেন ও লাজুক, ততই সে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে । সেই থেকেই তারমধ্যে অনেকসময় আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখা দিতে পারে ।

পরিশেষে নিজেরা সমস্যা খুঁজে বার করতে ব্যর্থ হলে অবশ্যই সাইকোলজিস্ট বা মনোবিদের পরামর্শ নিন ।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top