Mental health মনের যত্ন

একাকিত্বে আর ভয় নয়

মানসবাবু প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উঁচু পদে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন । ছেলে কাজের সূত্রে বিদেশে । ভেবেছিলেন অবসরের পর স্বামী-স্ত্রী ঘুরে বেড়াবেন । কিন্তু সব ইচ্ছেপূরণ হয় ! অবসরের এক বছরের মধ্যেই মারা গেলেন স্ত্রী নীলিমা । মানসবাবু এখন একলা । বিরাট বাড়ি, স্মৃতি যেন গিলতে আসে ।

বছর ত্রিশের পিয়াঞ্জলি । বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে ব্যাঙ্গালোর । আই-টি সেক্টরে কর্মব্যস্ত স্বামী । সকালে বের হয়, রাতে ফেরে । দিন যেন কাটতেই চায় না । বিয়ের পরপর দাম্পত্যে উত্তেজনা, আবেগে ভরপুর ছিল । কিন্তু দিনে দিনে সবটাই থিতিয়ে গেছে । স্বামী, ঘর সংসার থাকলেও একাকিত্বে ভুগছেন তিনি ।

বয়স্ক হোক বা তরুণ প্রজন্ম , কোথাও যেন একাকিত্ব, তা থেকে অবসাদ পাহাড়প্রমাণ হয়ে উঠছে । বিশেষত বয়সকালে । যখন পরিবারের অন্যান্যরা নিজেদের মতো ব্যস্ত, তখন যেন সময় কাটতেই চাইছে না । এর থেকেই অভিমান, বিষন্নতা । শরীর খারাপ । ভয় চেপে বসা ।

সকলেরই প্রশ্ন এই একাকিত্ব থেকে কি মুক্তি নেই ?

আছে । আর তার চাবিকাঠিও আছে আপনার কাছে । প্রথমেই বদল আনতে হবে ভাবনায় । অনেকেরই অভিমান ছেলেটা বিয়ে করে পর হয়ে গেল । ছেলেটা বিদেশে । এত ব্যস্ত বয়স্ক বাবা-মার খোঁজ নেয় না । একবার ভাবুন, ছেলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে কি আপনার মনে বাড়তি খুশি নেই ? আর বয়স হয়েছে মানেই আপনি কী একলা বোধ করেন ?

ধরুন যে কাজগুলো আপনার করা হয়নি আগে সময়ের অভাবে । সেগুলো কি করার কথা ভেবে দেখা যায় ?

1. পার্কে বেড়ান, মন্দিরে যান:

অঢেল সময়, তাহলে, সকাল অথবা বিকেল পার্কে, মাঠে হাঁটতে বের হন । দেখবেন, ভাল লাগছে । দেখবেন বয়সকালেও বন্ধু হয়ে যাচ্ছে । নিজেরাই দল বেঁধে ঘুরে আসুন । পিকনিক করুন । আড্ডা দিন । মন্দিরেও কিন্তু প্রচুর বয়স্ক পুরুষ, মহিলা আসেন । সেখানেও ভাল সময় কাটতে পারে ।

2. দুঃস্থদের পড়ান :

আপনার বাড়িতে যিনি গৃহকর্মে সাহায্য করেন বা বাগান পরিচর্যা করেন, দেখুন হয়তো তাঁদের ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনার জন্য ভাল শিক্ষক পাচ্ছেন না । তাঁদের সঙ্গে কথা বলেও কিন্তু দুঃস্থ ছেলে-মেয়েদের পড়ানোর দায়িত্ব নিতে পারেন । দেখবেন, জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন । ভাল বই পড়ুন ও সিনেমা দেখুন ।

3. বেড়াতে যান:

একলা যেতে ভয় করলে, ট্র্যাভেল এজেন্সির সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়ে পড়ুন । জীবনটাকে পুরোদমে উপভোগ করুন ।

4. পছন্দের কোর্সে জয়েন করুন:

একাকিত্বে ভোগা পিয়াঞ্জলির জীবনটাই বদলে দিয়েছিল একটা কোর্স । একদিন পিয়াঞ্জলি একটা বিজ্ঞাপন দেখেন, বাড়ির সামনে কেক, চকোলেট তৈরি শেখানো হয় । সেই কোর্সে জয়েন করে, এখন মুখে হাসি পিয়াঞ্জলির । কয়েকজন মহিলা মিলে অনলাইন কেক ডেলিভারির ব্যবসাও শুরু করেছেন তিনি । তাই বয়স হয়েছে বলে মুষড়ে না পড়ে যোগ ব্যায়াম, রান্না, গান, যেটা ভাল লাগে সেই কোর্সে জয়েন করুন । দেখবেন, আর পাঁচ জনের সঙ্গে দিব্যি সময় কেটে যাচ্ছে ।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top