Physical Health - শরীর স্বাস্থ্য

সিজন চেঞ্জের সর্দি-কাশির মোকাবিলায় ঘরোয়া টিপস

বিদায় নিচ্ছে শীত । ফাগুনের হাওয়ায় ভর করে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে নানা ভাইরাস ও ব্যাকটিরিয়া । বসন্তের মৃদুমন্দ হাওয়া মন ভরিয়ে দিলেও তা থেকে চট করেই সর্দি-কাশি-জ্বরে ধুঁকছে আপনার বাড়ির ছোট্ট সদস্য থেকে বাড়ির বড়রা । সিজন চেঞ্জের সর্দি-কাশির সমস্যা ঘরে ঘরে । দিনভর চড়া রোদ আর রাত হলেই শিরশিরানি ঠান্ডার অনুভূতি ।

গরম আর ঠাণ্ডার যুগলবন্দি উপভোগ্য হলেও এই পরিবেশে ভাইরাস ও ব্যাকটিরিয়ার বাড়বাড়ন্ত হয় সবথেকে বেশি । দিনরাতের মধ্যেই ঘনঘন আবহাওয়ার পরিবর্তন, তাই শরীর চট করে খাপ খাইয়ে নিতে পারে না । ঠান্ডা লাগা, গলা খুসখুস, কাশি, জ্বরে কাবু প্রায় সকলেই ।

তাই মরসুম বদলের সময়ে কীভাবে নিজেদের ও পরিবারের খুদে সদস্যকে সুস্থ রাখবেন তার জন্য রইল কিছু ঘরোয়া টিপস ।

হলুদ-দুধ – সর্দি-কাশিতে হলুদ অব্যর্থ কাজ দেয় । এছাড়া এক গ্লাস দুধে আধ চা-চামচ হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন । সম্ভব হলে এর সঙ্গে দু চা-চামচ মধু এবং এক চিমটে গোল মরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে নিতে পারেন ।

এই দুধ দিনে দুই থেকে তিনবার পান করুন । কফ, শ্লেষ্মা বেরিয়ে যাবে এবং উপকার পাবেন । এছাড়াও এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ জলেতে এক চিমটে হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে নিন । এটি দিয়ে প্রতিদিন গার্গল বা কুলকুচি করুন । গলায় ব্যথা থাকলে কমে যাবে ।

বাসক পাতা ও মধু – বাসক পাতা সর্দিকাশির সমস্যায় ফলপ্রসূ । বাসক পাতা ধুয়ে ভাল করে জলে ফুটিয়ে নিন । সেই জলে মধু, আদা, গোলমরিচ, তেজপাতা দিয়ে ফোটান । চাইলে কেউ তালমিছরিও ব্যবহার করতে পারেন । সেই জল গরম গরম পান করুন । বুকে সর্দি বসে থাকলে তা বেরিয়ে যাবে ।

আদা, কাঁচা হলুদ, গোলমরিচ, তেজপাতা, লবঙ্গ দিয়ে চা – একটি পাত্রে আদা, কাঁচা হলুদ, গোলমরিচ, তেজপাতা, লবঙ্গ একসঙ্গে ভাল করে ফুটিয়ে নিন । জল ফুটে অর্ধেক হয়ে গেলে নামিয়ে নিন । চাপা দিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ । হালকা গরম থাকতে থাকতে অর্ধেক পাতিলেবুর রস মিশিয়ে চায়ের মতো পান করুন । কাশি থাকলে কমে যাবে ।

তুলসি পাতা – শুকনো কাশির জন্যে তুলসি খুবই কার্যকরী । সকালে খালি পেটে তিন থেকে চারটি তুলসি পাতা খেতে পারেন । তাছাড়াও তুলসি পাতা ফুটিয়ে চা তৈরি করে খেতে পারেন । এটিও সর্দি-কাশি সারাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে । সর্দি, কাশি দুর করতে তুলসি পাতার রস দারুণ উপকারী । শিশুদের জন্য কয়েকটি তাজা তুলসি পাতার রসের সঙ্গে একটু আদার রস ও মধু দিয়ে খাওয়ালে খুব উপকার হয় ।

টোটকা তো রইলই সঙ্গে মেনে চলুন কয়েকটি সাবধানতা ।

১. সর্দি-কাশি বা জ্বর হলে স্নান করার সময় ঈষদুষ্ণ জলে ভাল করে স্নান করুন । বাচ্চার এসব উপসর্গ দেখা দিলে স্নান বন্ধ করবেন না এতে হিতে বিপরীত হতে পারে ।
২. ঘরের জানলা দরজা খুলে রাখুন । ঘেমে গেলে ঘাম বসে ঠান্ডা লেগে যায় । তার চেয়ে ঘরে এমন তাপমাত্রা রাখুন, যাতে সেটা আরামদায়ক হয় ।
৩. পাতলা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন ও বাচ্চাকেও এইসময়ে অযথা গরম পোশাক পরাবেন না ।
৪. প্রচুর জল খান ও সর্দি -কাশি হলে গরম স্যুপ, ফলের রস খান ।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top