Physical Health - শরীর স্বাস্থ্য

হাড়ের ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিসের (osteoporosis) ঝুঁকি আটকাবেন কি করে ?

বয়স বৃদ্ধি মানেই  বোন ডেনসিটি (bone density) কমে যাওয়া ।  বয়সের সঙ্গে সঙ্গে হাড় ক্ষয়ে যাওয়া খুব অস্বাভাবিক না। দ্রুত ও ক্রমাগত হাড় ক্ষয়ে যাওয়া বয়সকালে একটা সমস্যার সৃষ্টি করে ।  বিশেষত মেয়েরা ৩০ পেরোলেই কোমরের ব্যথা ও হাঁটুর ব্যথায় ভুগতে শুরু করেন ।  হাড়ের ক্ষয় থেকে নিঃশব্দে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে অস্টিওপোরোসিস । রোগটি পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মধ্যে বেশি দেখা যায় । এই রোগটির কারণে হাড়ের গঠন দুর্বল হয়ে পড়ে, হাড় ভঙ্গুর হয়ে যায় ।

আমাদের শরীরে হাড়কে সুস্থ-সবল রাখতে ক্যালশিয়াম-এর ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি । এছাড়াও হাড় মজবুত রাখতে ভিটামিন-কে-এর ভূমিকা অপরিহার্য । প্রথমত ভিটামিন-কে রক্তকে জমাট বাঁধতে দেয় না এবং দ্বিতীয়ত হাড়ের ওপর অতিরিক্ত ক্যালশিয়াম জমতেও বাধা দেয় । বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যালশিয়াম ও ফসফেট এমন দুটি খনিজ, যা স্বাভাবিক হাড় গঠনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় । আমাদের খাদ্যাভ্যাসে সেগুলির বদল ঘটে । ফলে অজান্তেই ক্ষয়ে যেতে শুরু করে হাড় ।

অস্টিওপোরোসিসের উপসর্গ:

১) অস্থি ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া, অস্থির ঘনত্ব কমতে থাকা ;

২) পিঠের পিছনে ঘনঘন ব্যথা অনুভব করা;

৩) পেশির শক্তি কমতে থাকা;

৪) সামান্য পরিশ্রমেই হাড়ে ব্যথা অনুভব করা ইত্যাদি অস্টিওপোরোসিসের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে ।

কিছু খাবার আছে যেগুলি খেলে দ্রুত হাড় ক্ষয়ে যেতে পারে ।  আমাদের অজান্তেই এই অভ্যাসগুলি নিঃশব্দে বাড়িয়ে তুলছে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি !

১. নুন:

খাবারে অতিরিক্ত নুনের ব্যবহার বাড়িয়ে তুলতে পারে অস্টিওপোরোসিস ।  নুন বা সোডিয়াম শরীর থেকে ক্যালশিয়াম বের করে দিয়ে হাড়কে দুর্বল করে দেয় ।

২. চা ও কফি:

অতিরিক্ত মাত্রায় চা ও কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা তাড়াতাড়ি পরিত্যাগ করুন । কফিতে থাকা ক্যাফেইন হাড়ের অকালে ক্ষয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী ।

৩. সফট ড্রিংকস:

সফট ড্রিংকসে থাকে ফসফরিক অ্যাসিড যা শরীর থেকে ক্যালশিয়ামকে প্রস্রাবের মাধ্যমে দেহের বাইরে বের করে দেয়, ফলে হাড় নরম হয়ে যায় ।

বয়স বাড়লে বিভিন্ন কারণে হাড়ের ক্যালশিয়ামসহ অন্যান্য উপাদান কমে গেলে হাড় পলকা হয়ে যায়, ফলে সামান্য চোট আঘাতে ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে । বয়স বাড়লে হাড়ের ঘুণ ধরা প্রতিরোধ করতে গেলে চাই রোদ্দুরে ঘোরাঘুরি আর ক্যালশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা ।

ক্যালশিয়ামযুক্ত খাবার রাখুন রোজের ডায়েটে । দুধ, দই, ছানা খাওয়া সবথেকে ভাল, যাঁদের দুধে অ্যালার্জি আছে তাঁদের সয়াবিনের দুধ, টোফু খাওয়া দরকার । এছাড়া ক্যালশিয়াম পাবেন যেকোনও সবুজ শাকসবজিতেও ।

পালং শাক, নটে শাক, বিনস, বাঁধাকপি, ব্রকোলি, কড়াইশুঁটিসহ সময়ের সবজি ও ফল রাখুন রোজকার ডায়েটে । এছাড়া মাছ, চিকেন, ডিমও খাওয়া দরকার । যাঁদের অল্পবয়সে মেনোপজ হয়েছে তাঁদেরতো বটেই অন্যদেরও প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেলস, ফ্যাটের সমন্বয়ে সুষম খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত শরীরচর্চা করা উচিত ।

কমবেশি সব মাছেই ক্যালশিয়াম বা ফসফরাস থাকে । তবে চেষ্টা করবেন কাতলা, বাটা, ল্যাটা, শিঙি, ভেটকি, মৃগেল, পুঁটি, ট্যাংরা, কই, বেলে-র মতো মাছগুলো খাওয়ার অভ্যেস করার ।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top