Physical Health - শরীর স্বাস্থ্য

আপনি কি পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোমে ভুগছেন ? খাদ্য তালিকা নিয়ে চিন্তিত!!

পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম এখন মহিলাদের কাছে খুব পরিচিত রোগ  । বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ মহিলাই এই অসুখে ভুগছেন । এই অসুখের আসল কারণ আমাদের বর্তমান জীবনযাত্রা । আজকালকার দিনের বেশির ভাগ মহিলাই চাকুরিজীবী, যার ফলে অনিয়মিত রুটিনে চলতে হয় কাজের প্রয়োজনে । এই কাজের চাপ, অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া, অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার বা বাইরের জাঙ্ক ফুড, নিয়মিত শরীরচর্চা করতে না পারা, হরমোনাল ডিসব্যাল্যান্স এসব কিছুই পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম-এর কারণ হিসেবে ধরা যায় ।  বেশিরভাগক্ষেত্রেই দেখা যায় মহিলারা শুরুর দিকে এই সমস্যা নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামান না, যার ফলে পরবর্তীকালে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করে ।

PCOS-এর ক্ষেত্রে জরুরি হল ডাক্তারের পরামর্শ মেনে নিয়মিত ওষুধ খাওয়া এবং ডায়েট চার্ট ফলো করা ।

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) এর লক্ষণ কি?

১. হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া এবং উত্তরোত্তর বাড়তে থাকা;

২. অনিয়মিত ঋতুস্রাব;

৩. শরীরের নানা অংশে, বিশেষ করে মুখে রোমের আধিক্য;

৪. ব্রণর বাড়াবাড়ি;

৫. হঠাৎ করে ত্বক তেলতেলে হয়ে যাওয়া;

৬. মাথার চুল খুব বেশিমাত্রায় ঝরতে শুরু করা;

৭. পেলভিক পেইন বা শরীরের নিম্নাঙ্গে মাঝেমাঝেই যন্ত্রণা হওয়া;

৮ অকারণ মুড সুইং ।

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমএর খাদ্যতালিকা  কীরকম হওয়া উচিত ?

কম ক্যালোরি যুক্ত খাবার এই সিনড্রোমের পক্ষে উপযুক্ত । প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায়  ১২০০ ক্যালোরি থাকা প্রয়োজন, যা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখবে । ওজন বাড়তে দেবে না ।

শাকসবজি প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন

প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি খেতে হবে । যার মধ্যে ভিটামিন-সি, কে, বি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ইত্যাদি রয়েছে । এই সিনড্রোমে যাঁরা ভুগছেন তাঁদের খাদ্যতালিকায় আয়রন থাকা জরুরি । এছাড়াও পটাশিয়াম, ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোনের ভালো উৎস । যা ওজন কমাতে সাহায্য করে থাকে ।

অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ খাবার খান

রাঙা আলু, টম্যাটো, গাজর, পটল খাদ্য তালিকায় অবশ্যই রাখুন । লেটুস, পালং, কলমিও তালিকায় থাকুক । বারেবারে চিনি ছাড়া গ্রিন-টি খান ।

প্রতিদিন ফল খান

ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার থাকে । তাই যাদের PCOS রয়েছে তারা প্রতিদিন আম, আপেল, লেবু, পেয়ারা, তরমুজ, পেঁপে এবং শুকনো খেজুর খাদ্য তালিকায় অবশ্যই রাখুন । জুস না করে গোটা খাওয়ার চেষ্টা করুন । ফ্রুট স্যালাড বানিয়েও খেতে পারেন ।

ফ্যাট জাতীয় খাবার রাখুন

চর্বিযুক্ত বড় মাছ নয়, ভিটামিন-বি ও ডি যুক্ত মাছ খান । ছোট মাছ খান । এছাড়াও আমন্ড, আখরোট ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় রাখুন । অলিভ অয়েল খাওয়ার চেষ্টা করুন । স্যামন, টুনা খেতে পারলে খুব ভাল হয় ।

দুধ জাতীয় খাদ্য

দুধে যাদের অ্যালার্জি নেই তারা দুধ খেতে পারেন । বাড়িতে পাতা টক দই খুবই উপকারী । বাটার অল্প চলতে পারে । কিন্তু মার্জারিন একেবারেই খাবেন না । পনির চলতে পারে । রোজ একবাটি ছানা খেতে পারেন ।

কী কী খাওয়া যাবে না

কোনওরকম প্রসেসড ফুড খাবেন না । প্যাকেট স্যুপ বা রেডি-টু-ইট খাবার একদম নয় ।

ন্যুডলস, পাস্তা বাদ রাখুন ।

বাইরের খাবার একদম নয় । রোল, চাউমিন, কাটলেট, ফুচকা, ভাজাভুজি বাদ দিন ।

কফি, চকোলেট, চিনি খাওয়া বন্ধ করুন । চলতে পারে ডার্ক চকোলেট।

অ্যালকোহল, স্মোকিং এড়িয়ে চলুন ।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top