Lifestyle - লাইফস্টাইল

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে রাখুন নিজের ব্যক্তিগত খুঁটিনাটি

নতুন ফোন কিনলেন কিংবা কোনও ব্র্যান্ডেড পোশাক, অথবা অন্দরের গৃহসজ্জার ডিজ়াইন, তা সে হোক না প্রিয়জনের জন্য রান্নাঘরে বানানো নতুন রেসিপি । সবার আগে সোশ্যাল মিডিয়া অর্থাৎ ফেসবুক( Facebook) বা ইন্সটাগ্রামে (Instagram) পোস্ট করতেই হবে । ক্যাপশন বা হ্যাশ ট্যাগ কী হবে তা নিয়ে মাথার চুল ছেঁড়ার অবস্থা । কটা লাইক এল, কত কমেন্ট পড়ল তা দেখার জন্য ছটফট করে মনটা । প্রতিটি মুহূর্তে একবার করে নোটিফিকেশনে চোখ বুলিয়ে নেওয়া । জীবন এখন  সোশ্যাল মিডিয়া সর্বস্ব । এইভাবে ব্যক্তিগত তথ্য হাটের মাঝে উজাড় করে দেওয়ার দুর্বার প্রবণতা কি আদৌ ভালো ? এর কতটা প্রভাব পড়ে ব্যক্তিগত জীবনে ?

সব কিছুরই যেমন ভালো দিক আছে, তেমনই কিছু খারাপ দিকও রয়েছে । সোশ্যাল মিডিয়াতে (social media) কোনও কিছু শেয়ার করাটা অবশ্যই খারাপ না , তবে সেটা মাত্রাতিরিক্ত হলেই শুরু হয় সমস্যা । রিয়েল লাইফের থেকে মুখ ফিরিয়ে ভার্চ্যুয়াল লাইফে বেশি করে নির্ভরশীল হয়ে যাওয়াটা ব্যক্তি এবং তার জীবনের জন্যে খুবই নেতিবাচক । আধুনিক পৃথিবীর সবথেকে বড় নেশা কি জানেন ? সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, অধিকাংশ মানুষ এখন সবথেকে বেশি বুঁদ হয়ে থাকেন সোশ্যাল মিডিয়ায় নেশায় ।

আমাদের পরিবারে বা আমাদের পরিচিত গণ্ডির  চারপাশে এমন কিছু মানুষ আছেন যাঁরা আপনার সুখে সুখী এবং দুঃখের সময় আপনার পাশে থাকেন । কিন্তু মজার কথা হল এইসব মানুষের সংখ্যা হাতেগোনা । আর তার ঠিক অপরদিকের সংখ্যাটাই কিন্তু বেশি । আপনি আপনার অনুভূতিগুলো যখন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ব্যক্ত করেন তখন সেখানে কিছু মানুষ থাকেন যাঁরা আপনার সেই সূক্ষ্ম অনুভূতির দাম নাও দিতে পারে । যেটা আপনার কাছে খুব স্বাভাবিক, অপরদিকে যে মানুষটি সেটা দেখছেন তার কাছে সেটা স্বাভাবিক নাও লাগতে পারে, আর এর থেকেই তৈরি হয় জটিলতা । সেখান থেকে তৈরি হতে পারে হিংসা, কথা কাটাকাটি, এমনকি অনেকে আপনার দোষ ধরায় ব্যস্ত হয়ে যাবে । এর প্রভাব আপনার ব্যক্তিগত এবং সংসার জীবনে পড়বেই ।

আপনি যখন এমন মানুষগুলোকে নিয়ে ব্যস্ত, যাঁরা আপনার হাতের ওই মুঠোফোনটায় বন্দী । তখন হয়তো, আপনার প্রিয় মানুষটি তাঁর অনেক কথা জমিয়ে রেখেছেন শুধুমাত্র আপনার জন্য । সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য “থাক পরে বলবো’’ গল্পটা আপনাকে আর কোনোদিন শোনানো হয় না তাঁর । এভাবেই কাছের মানুষগুলোর থেকে একটু একটু করে বাড়তে থাকে দূরত্ব!

  1. স্বামী- স্ত্রীর ব্যক্তিগত বিষয় দু’জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখুন;
  2. সোশ্যাল মিডিয়াতে বেডরুম এবং বেডরুমে তোলা ঘনিষ্ঠ ছবি শেয়ার করবেন না;
  3. সোশ্যাল মিডিয়াতে দাম্পত্য বিরোধ নিয়ে স্ট্যাটাস দেবেন না;
  4. পার্সোনাল সময়গুলোকে একে অপরকে দেওয়ার চেষ্টা করুন;
  5. অন্যকে দেওয়া প্রতিটি গিফটের ছবি শেয়ার করাটা খুব জরুরি নয় ।
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top