Mental health মনের যত্ন

সন্তানের মধ্যে অ্যাংজাইটি, কী ভাবে দূর করবেন

আপনার সন্তান কি অস্থির, নিঃশ্বাসের সমস্যায় ভুগছে ? একটুতেই নার্ভাস হয়ে পড়ে ? স্কুলে যেতে অনীহা  বা সমবয়সীদের মধ্যেও জড়োসড়ো হয়ে থাকে । এ ধরণের লক্ষণ দেখা দিলে বুঝতে হবে ধীরে ধীরে আপনার সন্তান অ্যাংজাইটির দিকে ঝুঁকছে । তবে বড়োদের মত ছোটরাও তাদের নিজেদের জগতের নানা সমস্যা নিয়ে চিন্তিত থাকতে পারে । কোনও কোনও শিশু সেই উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তা বড়দের কাছে প্রকাশ করতে না পেরে একাকিত্বের শিকার হয়ে যায় । চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, শিশুদের মধ্যে উদ্বেগ বা অ্যাংজাইটি দেখা দিতে পারে আট মাস বয়স থেকে । কোনও বিশেষ কিছু থেকে ভয় তৈরি হলে পরবর্তীতে সেটি থেকে অ্যাংজাইটিতে ভুগতে পারে আপনার সন্তান । যেমন, কোনও বিশেষ পোকামাকড় কিংবা জন্তু জানোয়ার থেকে ভয়, অন্ধকার থেকে ভয়, এসব থেকে গভীর সমস্যা তৈরি হতে পারে ।

 অ্যাংজাইটিতে ভোগার লক্ষণ 

  • অল্পেতেই বা সামান্য কারণে কান্না;
  • ক্ষণে ক্ষণে মেজাজ হারায়;
  • ভালো করে ঘুমোতে পারে না, ঘুমের ব্যাঘাত হয়, হামেশাই দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে যায়;
  • কখনও খিদে থাকে না, কখনও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খায়;
  • রাতে ঘুমের মধ্যে বিছানা ভিজিয়ে ফেলে;
  • অস্থিরভাব, এক জায়গায় বেশিক্ষণ স্থির হয়ে বসে থাকতে পারে না;
  • একটা চাহিদা নিয়ে বারবার এককথা বলা;
  • ঘ্যানঘ্যান করা ।

কী কী কারণে হয়

  1. কাছের কোনও মানুষকে হারালে, ট্রমার মধ্যে পড়লে যেমন পথ দুর্ঘটনা, মৃত্যু, স্বাস্থ্য-সমস্যা বাচ্চাদের অ্যাংজাইটি বাড়িয়ে দিতে পারে ।

দীর্ঘদিন ধরে বাবা-মা’র দাম্পত্য সমস্যার মুখোমুখি হলে অথবা মা-বাবার কাছ থেকে বিচ্ছেদের আশঙ্কা থাকলে সন্তানের অ্যাংজাইটি বাড়িয়ে দিতে পারে ।

স্কুলে বা বন্ধুদের কাছে বুলিং-এর শিকার হলে কিংবা বারবার স্কুল ও বাড়ি পরিবর্তন করলে উদ্বেগের শিকার হয় বাচ্চারা ।

উপেক্ষিত হলে ও দুর্ব্যবহার পেলেও বাচ্চারাও উদ্বিগ্নতায় ভোগে ।

 

কী ভাবে দূর করবেন

বাচ্চাকে একা হতে দেবেন না । বাড়ির লোকজনকে বারবার কথা বলে সন্তানের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করতে হবে ।

অযথা ভয় দেখাবেন না । নির্দিষ্ট কোনও বস্তু বা জন্তুকে উল্লেখ করে ভয় না দেখানোই ভালো ।

সন্তানের সামনে শান্ত ও সংযত থাকুন । আপনাকে দেখেই আপনার বাচ্চা নিজের উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ করতে শিখবে ।

তাদের হিংস্র আচরণ দেখলে তাকে বকাঝকা করবেন না বা মারবেন না ।  আদর দিয়ে বুঝিয়ে শান্ত করুন ।

প্রয়োজনে কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপির সাহায্য নিন, এই থেরাপি দিয়ে অ্যাংজাইটি মোকাবিলা করা সহজ হয় ।

কোনও কিছুতেই কাজ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন । তিনিই বলে দেবেন কোন ওষুধ খেলে বাচ্চার অ্যাংজাইটি নিয়ন্ত্রণে থাকবে ।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top