Mental health মনের যত্ন

চঞ্চল সন্তান, সামলাতে প্রাণ ওষ্ঠাগত

সন্তান হলো বাড়ির হৃদস্পন্দন। তাদের হুটোপাটি দৌরাত্ম্যে  বাড়ি সবসময়ই  সরগরম। বাবা -মা থেকে বাড়ির সকল সদস্যদের একটাই চিন্তা কখন কি করে বসে। অনেকসময় তাদের দুষ্টুমি বাবা-মাকে অপ্রস্তুত পরিস্থিতির সম্মুখীন করে দেয়। কিছু বাচ্চা একবারে শান্ত, ভাবগম্ভীর হয় তাদের নিয়ে বাড়ির লোকজনের চিন্তা না থাকলেও কিছু বাচ্চা থাকে যাদের  চঞ্চলতা অনেক সময় মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। একটা শিশু যখন অস্বাভাবিক চঞ্চল থাকে তখন আমরা তাকে বলি হাইপারঅ্যাকটিভ বা অতিচঞ্চল।

আপনার বাচ্চা যদি এমনটা হয়, একদম চিন্তা করার কোনও কারণ নেই।  কারণ হাইপারঅ্যাকটিভ মানেই খারাপ কিছু না। 

অতি চঞ্চল বাচ্চারা  সাধারণত মিশুকে হয়, এদের মধ্যে তাড়াতাড়ি কোনও  কিছু শিখে নেওয়ার প্রবণতা খুব বেশি থাকে। এরা বহির্মুখী স্বভাবের।    নিজেদের সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতে পারে। কোন বিষয়ে পারদর্শী, এব্যাপারে নিজেই  বুঝতে পারে সে।  নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে সক্ষম। এরা খেলার মাধ্যমে অনেক কিছু শিখে যায়, এদের চাঞ্চল্যে চিন্তিত হবার বিশেষ কোনও  কারণ নেই। তবে কিন্তু সবসময়ে অস্থিরতা প্রকাশ, কথা না শোনা , সামান্য কাজও করতে না পারা, অনর্গল কথা বলার মতো প্রবণতাগুলি দীর্ঘদিন ধরে চললে বিষয়টি ভাবনার। সেক্ষেত্রে আপনাকে মনোবিদের সঙ্গে পরামর্শ নিতে হতে পারে।

 চঞ্চল বাচ্চাকে সামলাবেন কি করে ?

সন্তান যেমনই হোক চঞ্চল বা শান্ত চিন্তিত হবার কিছু নেই, এদের মধ্যে সহজাত প্রতিভার বিকাশ হচ্ছে কিনা সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এদের বাড়তে দিতে হবে। এদের মধ্যে অকারণ ভয়ের সঞ্চার যাতে না হয় সেটা দেখতে হবে বাবা-মাকেই। অকারণ ভীতি, আত্মবিশ্বাসী হবার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। শিশুকে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে হবে যাতে সে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারে।

  1. বাচ্চা খুব চঞ্চল হলে তাকে নানা ধরণের গান শোনানোর চেষ্টা করুন।  সফট মিউজিক বা হালকা গান আপনার বাচ্চার মনকে শান্ত করে তুলতে পারে। তাকে নতুন নতুন গান শুনতে শেখান। ঘুমানোর আগে হালকা কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক চালিয়ে রাখুন।
  2. বাচ্চাকে ব্যস্ত রাখুন। দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় তাকে ছবি আঁকা, পাজল সল্ভ করতে দিন।
  3. বাচ্চাকে শান্ত রাখার জন্য যোগার অভ্যেস তৈরি করতে পারেন।  দিনে অন্তত আধঘন্টা ব্যায়াম করলে যেমন শরীর ভালো থাকে, তেমনই তার মধ্যে একধরনের মানসিক প্রশান্তি চলে আসে। নিয়মিত যোগ বা ব্যায়াম অতিচঞ্চলতা কমিয়ে দেয়।
  4. নিজে শান্ত থাকুন। বাচ্চাকে চুপচাপ রাখতে হলে নিজেকেও চুপচাপ থাকতে হবে। আপনি নিজে যদি বাচ্চার সামনে চিৎকার করেন, তাহলে আপনার বাচ্চাও যে অতিচঞ্চল হয়ে উঠবে এবং অনেক বেশি কথা বলবে, এটাই স্বাভাবিক।
  5. সন্তান চঞ্চল হলে ওকে মারধর করবেন না।
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top