Lifestyle - লাইফস্টাইল

বইয়ের সঙ্গে ‘সই’ পাতান, বাড়বে আয়ু

mental health

আর্নেস্ট হেমিংওয়ে বলে গেছেন  বইয়ের মত এত বিশ্বস্ত বন্ধু আর নেই। শুধু সঙ্গী নয় আপনার দীর্ঘজীবন পাওয়ার পিছনে হাত থাকতে পারে বইয়ের।

বই শুধু কি বন্ধু বা জ্ঞানের জ্ঞানের পরিধি বাড়ানোর হাতিয়ার?  গবেষকরা জানিয়েছেন, বই পড়া মানেই একধরনের মস্তিষ্কের ব্যায়াম। বই পড়লে আমাদের মস্তিষ্কের জটিল  গুলো আরও উজ্জীবিত হতে থাকে। একই সঙ্গে ব্রেনে চাপ ও স্ট্রেস কমানোর দাওয়াই হিসেবে বইকে তালিকায় রাখতে বলেন অনেক ডাক্তারই।  এতো গেল শারীরিক সুস্থতার কথা। স্নায়ুকোষদিনে ৩০ মিনিট বই বই পড়লে যে আপনি অন্যদের তুলনায় বেশি আয়ুর অধিকারী হতে পারেন।  শুনতে একটু অবাক লাগলেও গবেষণা কিন্তু তাই বলছে।  যারা বইয়ের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করেন তারা পৃথিবীতে একটু বেশি সময় কাটাতে পারবেন। গবেষকরা দেখেছেন, বই পড়ার অভ্যেস মানুষের মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। গবেষকদের দাবি, নিয়মিত বই পড়ার অভ্যেস (দিনে অন্তত আধঘণ্টা) অন্তত দু-বছর আয়ু বাড়িয়ে দেয়। তার সঙ্গে এটাও জেনে রাখা ভালো খবরের কাগজ পড়াও লাভজনক। তবে, বইয়ের মতো সুফল দেয় না।  বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বইয়ের সঙ্গে সময় কাটানো মানুষ অন্যদের তুলনায় একটু বেশি বাঁচেন। যারা সপ্তাহে অন্তত সাড়ে ৩ ঘণ্টা বই পড়ে, তাদের মৃত্যুঝুঁকি ১৭ শতাংশ কম। তবে পত্রিকা, ম্যাগাজিন বা খবরের কাগজের পাশাপাশি কিছু গল্পের বই বা  উপন্যাস পড়ার অভ্যেস তৈরি করুন।  কারণ সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, উপন্যাস পড়লে মস্তিষ্কের কমিউনিকেশন স্কিল  ও হৃদয়ে সহানুভূতি সাধারণত বাড়ে।

মডার্ন টেকনোলজির এই যুগে স্মার্টফোন ছাড়া আমরা বলতে গেলে প্রায় সকলেই অচল। বাড়তি সময় হাতে পেলেই টুক করে একটু ভার্চুয়াল দুনিয়ায় ঘুরে আসি। আগের মতো এখন আর বই পড়া তেমন হয়ে ওঠে না। দুপুরে কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে বই পড়ার সেই অভ্যাস এখন প্রায়-অতীত। রাতে বই পড়ার চেয়ে ওয়েব সিরিজ দেখার নেশায় ডুবেছেন অনেকেই। অথচ বই পড়লে কেবল জ্ঞান-বুদ্ধি বাড়বে এমনটা কিন্তু নয়, শরীর সুস্থ রাখতেও এই অভ্যাস দারুণভাবে সাহায্য করে।

তাই আর দেরি করে লাভ নেই,অবসরে যদি টিভি দেখে  বা মোবাইল না ঘেঁটে  সঙ্গী করুন বইকে, আখেরে লাভ হবে আপনারই।  আয়ু বাড়াতে সহায়তা করবে। তাই আর দেরি না করে আজ থেকেই চালু করে দিন বই পড়ার অভ্যাস। কাজের ফাঁকে সামান্য সময় পেলেই হাতে নিয়ে বসে পড়ুন একটা বই।  আর যাঁরা ইতিমধ্যেই বই পড়ছেন, তাঁরা সেই অভ্যাস চালিয়ে যান। বইকে জীবনের রুটিনের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলুন।

 

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top