Diet - ডায়েট

চটজলদি ওজন কমানোর হাতিয়ার কিটো ডায়েট

food

ব্যস্ত জীবন, ব্যস্ততম রোজকার রুটিন। রোজকার তাড়াহুড়ো জীবনের ছন্দে পা মেলাতে আমরা বেছে নিচ্ছি চটজলদি ডায়েট, রেডি-টু -ইট (ready to eat ) খাবার। সঙ্গে আছে ওয়ার্ক ফ্রম হোম। বাড়ি বসে টানা কাজের ফলে  শরীরে জমছে মেদ।  সেই মেদ ঝরানোর জন্য দরকার কুইক মেথড (method),  কারণ সময় কোথায় ? ঝটপট ওজন কমিয়ে ফিট হওয়ার মন্ত্র এখন কিটো ডায়েটে (keto diet)। গত কয়েক বছরে কিটো ডায়েটের জনপ্রিয়তা বেড়েছে  চোখে পড়ার মতো।  চটজলদি মেদ ঝরানোর জন্য এই ডায়েট চার্টকে বেশিরভাগ মানুষই পছন্দের তালিকায় এক নম্বরে রেখেছেন।দ্রুত ওজন কমাতে সেলিব্রিটিদের প্রথম পছন্দ কিটো ডায়েট।

কী এই কিটো ডায়েট?

এই ডায়েটে রোজকার খাবারের তালিকা থেকে সম্পূর্ণ বাদ কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার বন্ধ করে দিলে শরীর ফ্যাট বার্ন করে কিটোন বডি তৈরি করে। শরীরের এই বিশেষ অবস্থাকেই চিকিৎসা পরিভাষায় বলে কিটোসিস। সেই কিটোসিস থেকে এই ডায়েটের নামকরণ  কিটোজেনিক ডায়েট বা কিটো ডায়েট। এই ডায়েট মেনে চললে, দেহের প্রয়োজনীয় ক্যালোরির বেশিরভাগটাই আসে প্রোটিন এবং ফ্যাট জাতীয় খাবার থেকে। আর তা থেকেই শরীরের এনার্জির ঘাটতি মেটে। মস্তিষ্কের দৈনন্দিন কাজকর্ম চালাতে যে যে উপাদানের প্রয়োজন পড়বে, শরীর তাও সংগ্রহ করবে প্রোটিন এবং ফ্যাট খাবার থেকেই।
তবে এই ডায়েটের যেমন ভালো দিক রয়েছে তেমনই কিছু ক্ষতিকারক দিকও রয়েছে। দীর্ঘদিন কেউ ডায়েটটি একটানা মেনে চললে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

কিটো ডায়েটের উপকারিতা:

  • ব্লাড সুগার , ইনসুলিন হঠাৎ করেই অনেকটা কমে যায়।  এইচ-ডি-এল-এর মাত্রা বাড়ায় এই ডায়েট।
  • ট্রাইগ্লিসারাইড এবং কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে এই ডায়েটের পরামর্শ দেওয়া হয়। এই ডায়েট ফলো করলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
  • লো-ফ্যাট ডায়েটের তুলনায় এই ডায়েটে দ্রুত ও বেশি ওজন কমানো যায়।
  • ডায়েট শুরু করার কিছুদিনের মধ্যে খিদে কমে যায়।
  • কম কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
  • কিটো ডায়েটে কী কী খাওয়া যাবে
  • ফ্যাট – অলিভ অয়েল, নারকেল তেল, কোকোনাট বাটার, ক্যানোলা অয়েল, রাইস ব্রান অয়েল, সোয়াবিন তেল, ঘি, পিনাট বাটার, বাটার।
  • প্রোটিন – সালমন, টুনা, বেকন, চিকেন ব্রেস্ট, ভেড়ার মাংস, পর্ক, টার্কি, সোয়া চাঙ্ক, ম্যাকারেল, শ্রিম্প, কাঁকড়া, ডিম।
  • বাদাম এবং বীজ – বাদাম , আমন্ড, ওয়ালনাট, হ্যাজেলনাট, কুমড়ো বীজ, ফ্যাক্স সিড, চিয়া সিড, পেস্তা, সূর্যমুখীর বীজ।
  • ডেয়াারি প্রোডাক্ট – দুধ, কটেজ চিজ, চেডার চিজ, রিকোটা চিজ, মোজারেল্লা চিজ, গ্রীক ইয়োগার্ট, দই, ফ্লেভার্ড ইয়োগার্ট,  বাটার মিল্ক, পনির।
  • শাকসবজি – ব্রকোলি, সবুজ বিনস, অ্যাসপারাগাস, শসা, পালং, লেটুস, জুকিনি, সেলেরি, বেল পেপার, স্প্রাউটস, টম্যোটো, বেগুন।
  • ফল – অ্যাভোকাডো, স্ট্রবেরি, নারকেল, লেবু।
  • ভেষজ উপাদান এবং মশলা – ধনে পাতা, তুলসি , পুদিনা পাতা, লবঙ্গ, রোজমেরি, থাইম, ওরেগ্যানো, মৌরি, মেথি, ধনে, জিরে পাউডার, হলুদ, গোলমরিচ, নুন, পার্সলে এবং লাল লঙ্কা গুঁড়ো।
  • পানীয় – গ্রিন টি, ব্ল্যাক কফি এবং জল।
  • কিটো ডায়েটে কী কী খাওয়া যাবে না
  • ডায়েট সোডা – ডায়েট সোডার মধ্যে কৃত্রিম চিনি রয়েছে এবং সেই কৃত্রিম সুইটনারগুলি রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং মাত্রাতিরিক্ত ডায়েট সোডা গ্রহণ করলে ওজন বৃদ্ধি অবশ্যম্ভাবী।
  • ফল – আপেল, আঙ্গুর, কলা, কমলালেবু জাতীয় ফল বাদ দিন।  সাধারণত এইসব ফলের মধ্যে যে চিনি থাকে তা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই ফলের বদলে বেশি করে শাকসবজি ডায়েটে রাখা ভালো।
  • প্যাকেটজাত মশলা এবং কৌটোজাত খাবার – প্যাকেটজাত মশলা যেমন টম্যাটো কেচ-আপ, টম্যাটো পিউরি, বার্বিকিউ সস ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে চিনি, কৃত্রিম রং, গন্ধ ও কার্বোহাইড্রেট রয়েছে।

কারা এই ডায়েট ফলো করবেন না

কিটো ডায়েট মেনে চললে লো ব্লাড প্রেসার, কিডনিতে পাথর, কোষ্ঠ্যকাঠিন্য, পুষ্টির ঘাটতি দেখা যেতে পারে । যাদের লিভার, যকৃত, থাইরয়েড এবং পিত্তথলির কোনও সমস্যা রয়েছে এই ডায়েট তাদের কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ ।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top