Physical Health - শরীর স্বাস্থ্য

অ্যাসিডিটির সহজ দাওয়াই

অ্যাসিড

অ্যাসিডে অস্বস্তি? ব্যাপারটা তো কম-বেশি আমার-আপনার সকলেরই আছে, কিন্তু ভেতরের ব্যাপারটা যদি আমরা কিছুটা জেনে নিই তাহলে অস্বস্তিতে খানিকটা হলেও স্বস্তি মিলবে । জানালেন- বিশিষ্ট গ্যাস্ট্রো এন্টেরোলজিস্ট।

অ্যাসিডএর লক্ষণ

বুক জ্বালা, মুখ তেতো;

স্টুল পরিষ্কার না হওয়া, শ্বাসকষ্ট, চেস্ট ইনফেকশন, বমি, কাশি, ঘন ঘন খিদে পাওয়া;

বুক জ্বালাকে অনেক সময় বলে গ্যাস্ট্রো ইসো-ফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ। খিদে চলে যাওয়া, ইসোফেগাসে আলসার হলে গলার স্বর বদলে যায়, কানে ব্যথা হয়;

কারণ

  • খাদ্যনালী ও স্টমাকের মধ্যভাবে থাকা ভাল্ব যদি ঠিকমতো কাজ না করে, তবে অ্যাসিডিটির সমস্যা হয়;
  • অতিরিক্ত ধূমপান ও মদ্যপান;
  • ঠিক সময়ে না খাওয়া;
  • প্রেগনেন্সি;
  • বয়স বাড়া;
  • অনেকক্ষণ পেট খালি রাখা;
  • রোদে বা গরমে বেশি ঘোরাঘুরি;
  • নেগেটিভ ইমোশন;
  • দু’বার খাওয়ার মাঝখানে খুব বেশি গ্যাপ না রাখা, বারে বারে খাওয়া;
  • তেলের খাবার বেশি খেলে বা মশলাদার জাঙ্ক ফুড যেমন- চকোলেট, পিৎজা, আইসক্রিম, তেলেভাজা, অ্যালকোহল থেকে অ্যাসিডিটির সমস্যা হয়। তাছাড়া অনেকক্ষণ পেট খালি রাখলেও অ্যাসিডিটির সমস্যা হয়।

রোগ নির্ণয়

সাধারণত এন্ডোস্কোপিতে অ্যাকিউট অ্যাসিডিটির কারণ বা যদি আলসার হয়ে থাকে, তার কারণ নির্ণয় করতে সুবিধা হয়।

চিকিৎসা

অ্যাসিডিটির চিকিৎসায় মূলত অ্যান্টাসিড দেওয়া হয়। প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিকও দেওয়া হয়।

ঘরোয়া পদ্ধতি কিন্তু ফেলনা নয়

  • লবঙ্গ আসিডিটি কমাতে সাহায্য করে।
  • পুদিনার রস রোজ খেলে আযাসিডিটি কমে।
  • কলা, শশা, তরমুজ আাসিডিটি কমায়।
  • অ্যাকিউট অ্যাসিডিটি হলে চা-কফি বর্জন করুন।
  • দিনে ৩-৪ বার ডাবের জল খেলে অ্যাসিডিটি কমে।
  • অ্যাসিড থেকে চটজলদি মুক্তি পেতে গেলে এক গ্লাস জলে একচামচ সোডা ফেলে খেলে আরাম মিলবে।
  • সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস উষ্ণ গরমজল যদি রোজ খাওয়া যায়, তাহলেও উপকার মিলবে।

স্ট্রেসের সঙ্গে সম্পর্কটা শক্ত, অতএব সাবধান!

বর্তমানের ফাস্ট লাইফে স্ট্রেস এখন আমাদের নিত্যসঙ্গী। আর অতিরিক্ত স্ট্রেসের ফলে হজমের গোলমাল হয়। অ্যাসিড রিফ্লাক্স তৈরি হয়। খাবারগুলো পেটে দীর্ঘক্ষণ হজম না হওয়া অবস্থায় থাকে, ফলে স্টমাকে অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়ে, সেটা ইসোফেগাসে গিয়ে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণ হয়।

লাইফস্টাইল মডিফিকেশনের কিছু টিপ্

  • প্রথমেই ভ্রান্ত ধারণা হটান, অ্যাসিডিটির সঙ্গে পিঠে বা স্পাইনে ব্যথা হয় না, এই ব্যথা হয় স্ট্রেস থেকে;
  • প্রতিদিন ৬-৭ ঘণ্টার ঘুম প্রয়োজন;
  • দু’বার খাওয়ার মাঝে ৪-৬ ঘণ্টা গ্যাপ রাখুন;
  • ওমেগা খ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত খাবার বর্জন করুন;
  • নিয়মিত এক্সারসাইজ ও যোগা করুন;
  • কাজের ফাকে ৫-১০ মিনিট উঠে হেঁটে আসুন;
  • রিল্যাক্স করতে শিখুন, পরিবার বন্ধুদের জন্য মাঝেমধ্যে সময় বের করুন;
  • রাত্রে হাল্কা খাবার খান;
  • একসঙ্গে বেশি কাজে নিজেকে জড়াবেন না। যে কাজটা করছেন, মন দিয়ে করুন, স্ট্রেস কম থাকবে, অ্যাসিডিটির ঝামেলা থাকবে না।
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top