Mental health মনের যত্ন

জীবনে ব্যর্থ হওয়া মানে কি হেরে যাওয়া !

ব্যর্থতার ধাক্কা

জীবনে চলার পথে কখনও ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়নি এরকম মানুষ বিরল। স্কুলে পড়াশুনার সময়ে বার্ষিক পরীক্ষায় ফেল করা থেকে শুরু করে, পরবর্তীকালে টিউশন ব্যাচে ভালোলাগা মেয়েটির কাছে প্রেমে ব্যর্থ হওয়া।

উচ্চশিক্ষা লাভের আশায় অনেক কষ্ট করে প্রস্তুতি নিয়েও দেশের প্রথমসারির কলেজে ভর্তি হওয়া কিংবা বিদেশে পড়তে যাওয়ার স্বপ্ন একবারেই পূরণ হয় না।

হতাশার জন্ম

অনেক সময়ে একের পর এক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ব্যর্থতা ছাড়া কিছুই জোটে না কপালে, তখনই ঘিরে ধরে হতাশা। ব্যর্থতা বা পরাজয়ের ধাক্কা সামলানোর মতো মনের জোর সকলের থাকে না। সেই সঙ্গে যোগ হয় প্রিয়জনেদের বকুনি, সবকিছু মিলিয়ে উঠে দাঁড়ানো কিংবা পাল্টা লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার পরিবর্তে হেরে গিয়ে বন্ধ ঘরে মুখ লুকানো, এমনকী পরিস্থিতি থেকে পালাতে আত্মহননের কথাও ভেবে ফেলে মানুষ।

পরিবারের প্রত্যাশা

আজকাল নিউক্লিয়ার পরিবারগুলোতে শিশুরা যেকোনও জিনিস চাওয়া মাত্রই পেয়ে অভ্যস্ত হয়ে আসছে। অতিরিক্ত আদরের বিনিময়ে তাদেরকেও উপহার হিসাবে বাবা মায়ের হাতে তুলে দিতে হয় প্রতিটি বিষয়ে তুখোড় নম্বর। কোনও কিছু চেয়ে না পাওয়া কিংবা কোনও কাজে সফল না হওয়ার কষ্ট প্রথম যেদিন সামনে এসে দাঁড়ায়, তখন মেনে নিতে শুধু কষ্টই হয় না বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফল হয় মারাত্মক।

ছোটো ক্লাসে পড়াশুনার চাপ থাকে ঠিকই, কিন্তু প্রতিযোগিতার মাত্রা অনেক কম হয়। পরবর্তীকালে পড়াশুনার চাপ ও প্রতিযোগিতা দুটোই সমান তালে বাড়তে থাকে। ফলে তখন ক্লাসে প্রথম বা দ্বিতীয় হওয়াটাই শুধু কঠিন হয় না, বরং একটু ভালো ফলাফল করতেই রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় ছাত্রছাত্রীদের।

এদিকে শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং পরিবার এমনকী নিজের প্রতিও নিজের কিছু আশা-আকাঙ্খা, স্বপ্ন থাকে, যেগুলো পূরণ করতে না পারায় হতাশা ঘিরে ঘিরে ধরে বয়ঃস্বন্ধির মনকে।

জীবন সন্ধিক্ষণের টানাপোড়েন

শিশু থেকে কিশোর বা তরুণ ও তারপরে যুবক থেকে পরিণত মানুষ হিসাবে গড়ে ওঠার সময়ে বেশ কয়েকটি সন্ধিক্ষণ পার করতে হয়। এইসমস্ত সন্ধিক্ষণগুলোতে মানসিক টানাপোড়েন চলতে থাকে। ছোটোবেলায় একরকমভাবে চলতে অভ্যস্ত হয় মানুষ, বড় হয়ে সেই সব হিসাবনিকাশ, যেকোনও বিষয়ে সফল হওয়া বা সব পাওয়ার আনন্দ ক্রমে অনেক কঠিন হয়ে উঠতে থাকে। চাইলেই যে সব পাওয়া যায় না বা চেষ্টা করেও অনেকসময়ে বিফল হতে হয় সেটা ধীরে ধীরে বুঝতে পারে সে। কিন্তু সেই বিফলতা বা ব্যর্থতাকে মেনে নিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে চলা বা আবার চেষ্টা করার ক্ষমতা সবার মধ্যে থাকে না।

ব্যর্থতার ধাক্কা

শুধু পড়াশুনার ক্ষেত্রেই নয়, এই ব্যর্থতা আসে অন্যান্য রূপেও। যেমন- টিন-এজ বয়সে প্রেমে ব্যর্থ হওয়ার আঘাত। মানসিক অবসাদ থেকে সাময়িক মুক্তির পথ হিসাবে নানারকম প্রাণঘাতী নেশাজাত দ্রব্যে আসক্ত হয়ে পড়ে তরুণ প্রজন্ম, এমনকী একটা সময়ে আত্মহননের পথও বেছে নিতে পিছপা হয় না।

এই ধাক্কা সামলানোর আগেই চলে আসে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লড়াই, তখনই শুরু হয় জীবনের আসল ইঁদুর দৌড়। একের পর এক চাকরির ইন্টারভিউ, সরকারি চাকরির পরীক্ষা, রাতদিন এককরে প্রস্তুতি নিলেও সবসময়ে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না।

সঠিক সময় সুযোগের অপেক্ষা করা উচিত এবং অবশ্যই নিজেকে আরও ভালোভাবে তৈরি করা উচিত। ভালোমতো পড়াশুনা করা সত্ত্বেও আগের পরীক্ষায় কেন ভালো ফল হল না সেই কারণ বা দুর্বলতা খুঁজে বের করে সেই দুর্বলতাটাকে দুর করে আরও ভালো প্রস্তুতি নিতে হবে। কারণ আমরা সবাই জানি— Failure is the pillar of success.

লেখক- ডাঃ কেদার রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top