Mental health মনের যত্ন

হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়া ! কনভালশন নয় তো ?

অজ্ঞান

প্রাথমিক লক্ষণ

মনে পড়ে, হাসপাতালে আউটডোরে ধরাধরি করে নিয়ে আসা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়া ইমার্জেন্সি ফেরৎ নবনীতাকে নিয়ে আত্মীয়স্বজনের উদ্বিগ্ন-দৌড়াদৌড়ির কথা। সেদিনের আউটডোরে থাকা সাইকিয়াট্রিস্ট প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখলেন, নবনীতার এই অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এবং হাত পায়ের সাড় না থাকা অন্য কোনও অসুখ বা নিউরোলজিক্যাল কারণে নয়। এ হল কনভালশন-এর লক্ষণ বিশেষ।

পুর্ব অভিজ্ঞতা

আমরা বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম, এরকম ঘটনা আগেও বার কয়েক ঘটেছে এবং আরও বিশদে প্রশ্ন করে জানা গেল, বাড়িতে কোনওরকম মতবিরোধ বা মনকষাকষি হওয়ার পর নবনীতার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঘটনা আগে ঘটেছে, যেটা বাড়ির লোক তার কোনও মারাত্মক স্নায়বিক অসুস্থতা বলে ভেবেছে। এই ধরনের রোগ লক্ষণগুলোকে হিস্টিরিয়া বলে চিকিৎসা করেন সিগমুন্ড ফ্রয়েড।

কনভালশানের কারণ

ফ্রয়েড ব্রুয়ার-এর প্রদক্ষিত পথে হিপনোসিস-এর প্রয়োগে অন্তর্নিহিত উদ্বেগ, দ্বন্দ্ব, লজ্জা ও গ্লানিজনিত ভয় কাটিয়ে এই হিস্টিরিয়া রোগ সারিয়ে তুলতেন। ফ্রয়েডের মতে এই মনের অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্বের শুরু অনেক আগে শিশু বয়েসে।

ইলেক্ট্রা কমপ্লেক্স কি?

ফ্রয়েড সারাজীবনকে কয়েকভাগে ভাগ করেছিলেন। যা প্রধানতঃ বৃদ্ধি বা বড় হয়ে ওঠার স্তরবিভাগ। এই স্তরের এক প্রাথমিক ভাগ হল ফ্যালিক স্টেজ, যা হল তিন থেকে পাঁচ বছর বয়েস। এই ফ্যালিক স্টেজে মেয়েদের মধ্যে দেখা দেয় ইলেকট্রা কমপ্লেক্স

রিপ্রেশন বা অবদমন কি?

এই বাচ্চা মেয়ের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু তখন তার বাবা। সেই কাছাকাছি বিপরীত লিঙ্গ। কিন্তু মেয়েটির মনে আশঙ্কা থাকে মায়ের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার। অর্থাৎ বাবার প্রিয়পাত্রী হতে গেলে মা’র সঙ্গে বিরোধ লাগবে। যেহেতু সে উপলব্ধি করে মা’র জায়গাটা জিতে নেওয়া কঠিন এবং এই বাবার প্রতি আকর্ষণ সামাজিকভাবেও সমর্থন পাবে না, তখন সে নিজের মধ্যেই এই যৌনচিন্তা চেপে রাখে। একে রিপ্রেশন বা অবদমন বলা হয়।

ফ্রয়েডের মতে অসাড়তার কারণ

ফ্রয়েড বলেছিলেন, যদি বাবা-মা কোনও কারণে শিশুর এই যৌনচিন্তার স্বাভাবিক প্রকাশে বাধা দেন বা শাস্তি দেন, তাহলে ঐ শিশুর মনে অবদমিত যৌন আকাঙ্খা পরবর্তীকালে কখনও কখনও হঠাৎ প্রকাশ হয়ে পড়ে।

স্বাভাবিকভাবেই কিশোরী বা পূর্ণবয়স্ক নারীর পক্ষে এই অবদমিত কাম ইচ্ছা প্রকটিত হওয়া অত্যন্ত লজ্জা বা অস্বস্তির ব্যাপার। এই লজ্জাকর অনুভূতিকে অস্বীকারের জন্যই তাদের এই অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা অসাড়তার শারীরিক উপসর্গসমূহ অবলম্বন। এ হল অবচেতন অনুভূতির চেতন উপসর্গ হিসাবে প্রকাশ।

ভারতীয় প্রেক্ষাপট

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট যদি ভাবি, তা হলে বুঝতে অসুবিধা হয় না হিস্টিরিয়া ধরনের অসুখের প্রসার গ্রামাঞ্চলে কেন বেশি। এই কনভালসন বা ফাংশানাল নিউরোলজিকাল ডিসঅর্ডারের মানসিক চিকিৎসা ভালো কাজ দেয়। এই ব্যাপারে মনোবিদ চিকিৎসকের সাহায্য নিন।

লেখক- ডঃ তন্ময় মিত্র

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top