Physical Health - শরীর স্বাস্থ্য

উচ্চরক্তচাপ নিরাময়ে আয়ুর্বেদ

উচ্চরক্তচাপ

সাধারণভাবে স্বাভাবিক ও অস্বাভাবিক রক্তচাপের কোনও নির্দিষ্ট সীমারেখা নেই। চিকিৎসার সুবিধার জন্য একটা সীমারেখা স্থির করা হয়েছে, যা স্বাভাবিক রক্তচাপ হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। এই সীমারেখা স্থির করার সময় বয়স, লিঙ্গ ও ওজন ইত্যাদি বিচার করা হয়।

সাধারণভাবে বলা যায় একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রসারণকালীন রক্তচাপ ৮৫ মিমি পারদের কম হলে স্বাভাবিক, ৮৫ থেকে ৮৯ হলে স্বাভাবিকের থেকে উচ্চমাত্রায়, ৯০ থেকে ১০৪ সামান্য রক্তচাপ, ১০৫ থেকে ১১৪ মাঝারি এবং ১১৫-র অধিক হলে উচ্চ বা অতিরিক্ত রক্তচাপ বৃদ্ধি। অনুরূপভাবে সংকোচনকালীন ১৪০-র কম হলে স্বাভাবিক, ১৪০ থেকে ১৫৯ মৃদু রক্তচাপ, ১৬০ থেকে অধিক হলে অতিরিক্ত রক্তচাপ বলা হয়।

রক্তচাপ বৃদ্ধির কারণ

অধিকাংশ ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কোনও কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। এই ধরনের সমস্যা সাধারণত বংশগতভাবে হতে পারে। উচ্চরক্তচাপের ৯০ শতাংশই এরজন্য দায়ী।

অন্যান্য কারণগুলির মধ্যে আছে-

  • জীবাণুর সংক্রমণজনিত প্রদাহ;
  • কিডনির ধমনীর সংকোচন;
  • অন্তঃক্ষরা প্রন্থির সমস্যা;
  • অত্যধিক ওষুধের ব্যবহার;
  • এছাড়াও মানসিক দুশ্চিন্তা, অত্যধিক পরিশ্রম, অত্যধিক স্নেহজাতীয় খাদ্য খাওয়া, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি, মহাধমনীর সংকোচন, গর্ভাবস্থায় বিষক্রিয়া ইত্যাদি।

রোগের লক্ষণ

অনেকসময়ই উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত রোগীর কোনও অসুবিধা বা কষ্ট থাকে না। সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা অন্য কারণে রোগীকে পরীক্ষার সময় এই রোগ ধরা পড়ে। কিছুক্ষেত্রে সিম্পটমস্বরূপ-

  • মাথাব্যথা বিশেষ করে মাথার পিছন দিকে
  • মাথা ঘোরা
  • বুকে ব্যথা
  • চোখে ঝাপসা দেখা এবং দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
  • সহজে ক্লান্ত হওয়া
  • পুরুষত্বহীনতা
  • নিশ্বাসের কষ্ট ইত্যাদি হতে দেখা যায়।

জটিলতা

  • শরীরে উচ্চরক্তচাপের সমস্যা হলে বেশ কিছু জটিলতা দেখা যায়, যেমন-
  • হৃদপিণ্ডের বিশেষত বাম নিলয়ের পেশির বৃদ্ধি
  • ক্রমাগত উচ্চরক্তচাপে রক্ত ধমনীতে পাঠানোর দরুন ক্লান্তিতে পেশির দুর্বলতা ও অক্ষমতা
  • হৃদপিণ্ডের মাংসপেশিতে রক্ত সরবরাহ হ্রাস পাওয়া
  • অক্ষিপটে রক্তপাত
  • মস্তিষ্কে সরবরাহকারী ধমনীর সংকোচন বা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ধমনী থেকে রক্তপাত
  • কিডনির কার্যকারিতা নষ্ট হওয়া।

প্রতিরোধ

  • নিয়মিত ব্যায়াম
  • মেদ বৃদ্ধি বিষয়ে সাবধানতা
  • ধুমপান বর্জন করা
  • পরিমিত খাদ্যগ্রহণ, বিশেষত স্নেহজাতীয় খাদ্য যেমন- ঘি, মাখন, খাসির মাংস, ডিম, চিংড়ি ইত্যাদি বর্জনীয় দৈনিক ৫ প্রামের অধিক নুন না খাওয়া
  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা
  • মানসিক দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকা ইত্যাদি।

আহার

উচ্চরক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণ করতে আহারের ব্যাপারে বিশেষ যত্ন নিতে হবে। নিরামিষভোজীদের পক্ষে উপাদেয়- থোড়, ঝিঙে, পটল। আমিষভোজীদের পক্ষে- মাংস ও ডিমের পরিবর্তে মাছের ঝোল ও ভাত উপকারি।

ওষুধ

কুলথকলাই, সর্পগন্ধা পাউডার, অশ্বগন্ধা পাউডার, পুনর্নবা রিস্টা, অর্জুনা রিস্টা, সর্পগন্ধা বড়ি,  রাতে শোয়ার আগে রোজ ত্রিফলা ও জোয়ান চূর্ণ জলের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে উপকার পাবেন।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top