Physical Health - শরীর স্বাস্থ্য

হোমিওপ্যাথিতে নির্মূল হতে পারে পলিসিস্টিক ওভারিয়ান ডিজিজ

ওভারি

পলিসিস্টিক ওভারিয়ান ডিজিজ- এই নামটির সঙ্গে বর্তমানে অনেক মহিলাই পরিচিত। এই সিনড্রোম প্রথম বর্ণনা করা হয়েছিল ১৯৩৫ সালে। এর প্রধান লক্ষণগুলি হল অ্যামেনোরিয়া বা খতুস্রাব না হওয়া, হারসুইটিজম বা নারীদের মধ্যে অবাঞ্ছিত লোমের উদ্ভব এবং স্থুলতা। এর সঙ্গে থাকে বর্ধিত বহু সিস্ট সম্বলিত ওভারি বা ডিম্বাশয়। এই রোগ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বন্ধ্যা নারীদের মধ্যেই দেখা যায়।

কারণ

অ্যান্ড্রোজেন নামক হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণ যা ওভারির ফলিকলগুলির স্বাভাবিক বৃদ্ধির ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে ওভ্যুলেশন হতে পারে না। ওভারি স্বাভাবিকের থেকে দুই থেকে পাঁচগুণ বৃদ্ধি পায়। এই সিস্টগুলি ৪ থেকে ১০ মিমি পর্যন্ত হতে পারে।

লক্ষণ

  • স্থুলতা;
  • পিরিয়ডের সমস্যা- কম স্রাব হওয়া বা স্রাব না হওয়া বা অতিরিক্ত স্রাব হওয়া;
  • বন্ধ্যাত্ব;
  • মহিলাদের দাড়ি, গোঁফ ইত্যাদি অবাঞ্ছিত লোমের উদ্ভব, ঘাড়ের, উরুর ভিতরের অংশের, বাহুসন্ধির চামড়া মোটা ও গাঢ় হয়ে যাওয়া- একে বলে অ্যাকান্থোসিস নাইগ্রিক্যান্স।

ইনভেস্টিগেশন

  • আল্টাসনোগ্রাফি- বিশেষত ট্রান্সভ্যাজাইনাল আলট্রাসনোগ্রাফি স্থুল মহিলাদের ক্ষেত্রে উপকারী;
  • রক্তে নির্দিষ্ট কিছু হরমোনের মাত্রা নির্ধারণ করেও চিকিৎসক ডায়াগনোসিস করতে পারেন।

চিকিৎসা

লক্ষণানুসারে প্রতিটি পি সি ও ডি রোগীর চিকিৎসা বিভিন্ন হবে। ওষুধ খাওয়া ছাড়াও ওজন কমানোর জন্য ব্যায়াম করা ও নিয়মিত খাদ্যতালিকায় সবুজ শাকসব্জী যোগ করতে হবে। তবে উপরোক্ত লক্ষণসমূহ দেখা গেলে অবিলম্বে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন ও তিনি যা যা পরীক্ষা করতে উপদেশ দেন তা মেনে চলার চেষ্টা করুন। তাহলে জানা যাবে যে রোগীর ওভারি কতটা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়েছে বা রোগ কতদূর অগ্রসর হয়েছে। কারণ রোগ জটিলতাপ্রাপ্ত হলে তার সম্পূর্ণ নিরাময়ের সম্ভাবনা কম থাকে।

চিকিৎসা না করে বহুদিন রোগ বহন করলে- ডায়াবেটিস, জরায়ুর ক্যান্সার, হার্টের সমস্যা বা উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে। এই রোগের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে রোগীর Constitutional Treatment করতে হবে। সেরকম কিছু ওষুধ হল- ক্যালকেরিয়া কার্ব, প্রাফাইটিস্‌, ল্যাকোসিস্‌, ন্যাট্রাম মিউর, নাক্সভমিকা, পালসেটিলা, সিপিয়া, সাইলিসিয়া, থুজা, সোরিনাম, মেডোরিনাম, লাইকোপোডিয়াম ইত্যাদি।

এছাড়াও অতিরিক্ত রক্তস্রাবের জন্য- চায়না, থ্যালাস্পি, ট্রিলিয়াম, ফাইকাস, জনোশিয়া অশোকা ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া উফোরিনাম (বিশেষত মেনোপজের সময় সমস্যায়), ক্যালিব্রোম, এপিস মেলিফিকা ইত্যাদিও ব্যবহার হয়ে থাকে।

এইগুলি ছাড়াও আরও প্রচুর ওষুধ আছে যা রোগীর লক্ষণানুসারে ব্যবহার করলে রোগী পার্শবপ্রতিক্রিয়ামুক্ত চিকিৎসা পেয়ে উপশম অনুভব করবেন এবং ক্ষেত্রবিশেষে রোগমুক্ত হবেন।

হোমিওপ্যাথিক ওষুধ রোগীর সামগ্রিক সমস্যাসমূহকে গণ্য করে নির্ধারণ করা হয়। তাই প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রে আলাদা ওষুধ লাগার সম্ভাবনাই বেশি। তাই নিজে নিজে যে কোনও ওষুধ না খেয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়াই শ্রেয়।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top