Mental health মনের যত্ন

দুষ্টুমির জন্য শাস্তি নয়, চাই ভালবাসা

দুষ্টুমি

দুষ্টুমি শিশুর স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া শিশু যখন প্রতিদিনের রুটিনমাফিক কাজের বাইরে অন্য কিছু করে তখন সেটাকে দুষ্টুমি বলা হয়।দুষ্টুমি শব্দটি আপেক্ষিক। কোন কাজটিকে দুষ্টুমি বলে গণ্য করা হবে এটার কোনো নির্দিষ্ট মাপকাঠি নেই। বিষয়টি নির্ভর করে কে দুষ্টুমি করছে, কে কীভাবে দেখছে তার ওপর। এই বিষয়ে আমাদের জানালেন-__ বিশিষ্ট সায়কোলজিস্ট ডঃ তন্ময় মিত্র।

দুষ্টুমি শিশুর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া
বাচ্চারা তো ছটফট করবেই। তার আবেগ, অনুভূতি থাকবে। দুষ্টুমি শিশুর স্বাভাবিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া দুষ্টুমির মধ্যে দিয়ে শিশুর ব্যক্তিত্বের বিকাশ হয়। তারপর শুরু হয় বয়ঃসন্ধিকাল। শৈশবে দুষ্টুমি না করাটাই অস্বাভাবিক ব্যাপার। একেবারে নিশ্চুপ বাচ্চা তো জড়-বুদ্ধি সম্পন্ন

দুষ্টুমি কখন বিপদ
তবে দুষ্টুমি যখন বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যায় তখন সেটা সমস্যা হতে পারে। যেমন কথা না শোনা, শৃঙ্খলা না মানা, সবসময়ে মারামারি করা, পড়তে না চাওয়া, ভীষণ মিথ্যে কথা বলা ইত্যাদি। তবে দুষ্টু বাচ্চাদের সেভাবে সমস্যাপূর্ণ শিশু বা প্রবলেম চাইল্ড বলে চিহ্নিত করা ঠিক নয়।

দুষ্টুমির পরিবর্তন
আর্থ সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দুষ্টুমির হয়তো রূপান্তর হয়েছে, মাত্রা বেড়েছে। বেশি সমস্যা দেখতে পাই মধ্যবিত্ত পরিবারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাবা-মা’দের একটি সন্তান। যা চাইছে তাই পেতে পেতে বাচ্চা হয়ে ওঠে স্বার্থপর, একগুয়ে ও জেদি। না পেলে বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুর করে।
দ্বিতীয়ত, বাবা-মা বাচ্চাকে ঠিকঠাক নজর দেয় না। সেক্ষেত্রে স্নেহ-আদর না পেতে পেতে শিশু অবাধ্য হয়ে যায়।
শিশু, প্রকৃতির পর শিক্ষকের কাছ থেকে বেশি শিক্ষা পায়। তাই শিক্ষককে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে আরও স্নেহশীল, মমতাময় ও হৃদয়বান হতে হবে। শিশুকে শাস্তি নয়, ভালবেসে শেখাতে হবে। ব্যক্তিত্ব বিকাশে বাবা-মা ও শিক্ষকের দায়িত্ব নিতে হবে।

চিকিৎসা
সমস্যাপূর্ণ শিশুদের ক্ষেত্রে প্রথমে কাউন্সেলিং-এর মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গেলে ওষুধ দেওয়া হয়। দুষ্টুমি যখন বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যায় তখন সেটা সমস্যা হতে পারে, মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় হাইপার অ্যাক্টভিটি ডিসঅডার।

এইসব সমস্যায় যেসব শিশুরা ভুগছে তাদের যেসব লক্ষণগুলি দেখা যায় তা হল-

  • অমনোযোগিতা
  • দৈনন্দিন কাজকর্ম ভূলে যাওয়া
  • খুব বেশি কথা বলা
  • চাহিদা মতো জিনিস না পেলে কাঁদা
  • এরা শৃঙ্খলা মানতে চায় না;
  • আপাতত শোনার সমস্যা থাকে।
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top