Mental health মনের যত্ন

সন্তানকে দিন সঠিক সময়ে সঠিক শিক্ষা

সন্তান

প্রেম বা ভালোবাসার রূপ আসলে কি? এর গভীরতা কতদূর? জীবনের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক কতটা অঙ্গাঙ্গিক? জীবনের আগেও কি ভালোবাসা? এই সমস্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর আমরা কতটুকু জানি সেই বিষয়ে রয়েছে বিস্তর সন্দেহ। অথচ আপনার পাশের বাড়ির ক্লাস সিক্স-এর ছেলেটিকে জিজ্ঞাসা করুন প্রেম কি? সে আপনাকে নতুন করে বুঝিয়ে দেবে প্রেম কি? কিংবা হয়তো এমন ব্যাখ্যা দেবে যা শুনে আপনি রীতিমতো আঁতকে উঠবেন, খোঁজ নিয়ে দেখুন যেই সময়ে আপনি ঠিকমতো “তোমার প্রিয় হবি” রচনা লিখতে পারতেন না, ওই ক্ষুদে হয়তো ততদিনে গোটা দশেক প্রেমপত্র লিখে ফেলেছে। আপাত দৃষ্টিতে যাই মনে হোক আসলে বিষয়টা অত্যন্ত ভয়ের।

এখন প্রশ্ন হলো আমরা বড়রা যে সমুদ্রসমান অর্থবহ “ভালোবাসা” শব্দটার গভীরতা ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারলাম না, আজকের টিনেজারদের কাছে সেই প্রেম কি এমন রূপে ধরা দিল যাতে জীবনটাকেও শেষ করে দেওয়ার আগে দু’বার ভাবছে না এরা? প্রেম কি আদৌ এত সহজে ব্যাখ্যা দেওয়ার বিষয়? তাহলে অপরিণত মস্তিষ্কে এত সহজে কি করে কবজা করছে এই অত্যন্ত জটিল ও পরিণত আবেগ?

কারণ হিসাবে বলতে গেলে উঠে আসে একাধিক বিষয়, যেমন

  • কিশোর বয়সেই সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার।
  • বাড়ির টেলিভিশনগুলোতে অনবরত চলতে থাকা সিনেমা অথবা সিরিয়াল।
  • কম্পিউটার অথবা ডি ভি ডি প্লেয়ার এবং রমরমিয়ে চলতে থাকা সিডি ক্যাসেটের বাজার |
  • মোবাইল ফোনের যথেচ্ছ ব্যবহার।

অনেক অভিভাবক বলবেন সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব, বাঙলা সিরিয়াল, মোবাইল ফোন ইত্যাদি থেকে তারা তাদের সন্তানদের দূরে রাখেন। এগুলো অতি সত্যি কথা। সত্যিই বাঙলা সিরিয়াল, কিংবা মোবাইল ফোন ভীষন রকমভাবে শিশু-কিশোরদের অপরিণত মস্তিষ্ককে জোর করে পরিণত করার চেষ্টা করে চলেছে যা সাইকোলজি কিংবা মেডিকেলের ভাষায় অসম্ভব। কিন্তু একটু খতিয়ে দেখলে বোঝা যায় টিনএজারদের মধ্যে এই প্রেম ভালোবাসা অর্থাৎ গভীরভাবে কোনও সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার পেছনে আরও অনেক কারণ রয়েছে যেগুলো এড়িয়ে চলা কার্যত অসম্ভব।

সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার কারণ

  • ইংরাজি মাধ্যম কো-এডুকেশন স্কুলগুলোতে ছেলে-মেয়ে অবাধ মেলামেশা
  • নিউক্লিয়ার পরিবার।
  • চাকুরিরত বাবা মায়ের সময়ের অভাব।

এই সবকিছু মিলিয়ে একটা শিশুর শিশু থেকে কিশোর এবং কিশোর থেকে যৌবনে পা দেওয়ার সন্ধিক্ষণে গভীর প্রভাব ফেলে। একটা শিশু বা কিশোর বাইরের জগত থেকে যা যা শিখে আসছে সেটা ঠেকানোয় আমাদের কোনও হাত নেই। কিন্তু তার ভুল ধারণা দূর করে দেওয়া বা সঠিক সময়ে সঠিক শিক্ষা দেওয়ার মতো সময় আজকের বাবা মায়েদের হাতে নেই বললেই চলে। অন্যদিকে নিউক্লিয়ার পরিবার হওয়াতে স্কুলে কিংবা টিউশন ব্যাচে সদ্য প্রেমে পড়া সম্পর্কে আঘাত খেলে সেই ক্ষতস্থানে প্রলেপ দেওয়ার মতো প্রিয়জন অনুপস্থিত। বাবা মা ব্যস্ত নিজেদের জীবন নিয়ে । তাই প্রেমের বিরহ কিংবা প্রতারণার শিকার হওয়া কচি মন অবসাদবোধ, বেদনা সব মিলিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, হেরে যায় জীবন থেকে।

বাবা মায়ের কর্তব্য

  • ঠিক সেই মুহূর্তে তাকে সান্তনা দেওয়া কিংবা আদর করে কাছে টেনে নিয়ে জীবনের মূল্যবোধ শেখানোটা খুব জরুরি।
  • বকুনির বদলে সর্বদা আগলেও রাখতে হবে সন্তানকে, মুছিয়ে দিতে হবে ওর চোখের জল।
  • প্রেম কিংবা ভালোবাসা শব্দদুটো সমুদ্রের মতো বিশাল, আবার এর অর্থ পাহাড়ের মতো কঠিন। সময় ও জীবন তাকে একে একে এগুলোর গভীরতা ও অর্থ শিখিয়ে দেবে। তাই অপেক্ষা করতে হবে, গড়ে তুলতে হবে সুন্দর জীবন। তারপর একদিন সঠিক সময়ে প্রেম এসে ধরা দেবে নিজের থেকেই।
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top