Physical Health - শরীর স্বাস্থ্য

বেশি কথা বলছেন, কমে যাচ্ছে আয়ু সাবধান

কথায় আছে, বেশি কথা বললে কমে আয়ু। এখন বিজ্ঞানও সেই পুরানো বচনকেই সত্যি বলে মেনে নিচ্ছে। কারণ, বেশকিছু গবেষণা বলছে, মৌনব্রত (Silence Fasting) রাখলে কমতে পারে নানাবিধ সমস্য়া। এমনকী বহু অসুখ থেকেও মিলতে পারে মুক্তি।

প্রাচীন মুনিঋষিদের কথা পড়তে বসলেই জানা যায়, তাঁরা বেশিরভাগ সময়ই কথা বলতেন না। নিজেদের মধ্যেই থাকতেন। করতেন ধ্যান। এদিকে আমাদের জীবন দেখুন! সকাল থেকে শুরু হচ্ছে বকবক। কথা শেষ হচ্ছে রাতে গিয়ে। এর মাঝে কখনও কখনও আবার কথায় বাড়ছে কথা। কখনও মুখে কথা বন্ধ হচ্ছে তো মোবাইল, কম্পিউটারে ডিজিটাল ব্যবস্থায় বকবক করা চলছে। মোদ্দা কথা, আমরা একটুও চুপ নেই। আর আমাদের এই চুপ না থাকার কারণেই সকলের অগোচরে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে নানান সমস্যা। তাই কিছুটা সময় চুপ করে থাকা উচিত বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশিষ্ট আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ডা: বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, আয়ুর্বেদ চিকিৎসার মূল সূত্রই হল শারীরিক ও মানসিক রোগের একসঙ্গে নিরাময় করা। এখানে মৌনব্রত একপ্রকার বাচিক বেগ ধারণ প্রক্রিয়া। এককথায় বললে বোঝায়, আমরা মৌনব্রত পালন করলে কাউকে আঘাত করে কিছু বলা, গোপন কথা সর্বসমক্ষে বলা, মিথ্যে বলা এবং অত্যধিক বকা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকি। এই সবগুলোই স্বাস্থ্যের পক্ষে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিকারক। এছাড়়া মৌনব্রত রাখার কিছু সরাসরি শারীরিক লাভও রয়েছে। তাই সর্বদা বাচিক বেগ ধারণ করুন। ভালো শ্রোতা হন ও সুস্থ থাকুন।

তাই আপনারা চাইলে আজ থেকেই রাখতে পারেন মৌনব্রত। এক্ষেত্রে একদিন থেকে কয়েক ঘণ্টার মৌনব্রত করা যায়।

মৌনব্রতর লাভ
১. হৃৎপিণ্ডের সমস্যা এড়ানো যায়: বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বেশি কথা বললে বাড়তে পারে হৃদরোগের আশঙ্কা। সেক্ষেত্রে হার্টবিট বেড়ে যায়, উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়। আর মৌনব্রত রাখতে পারলে এই সমস্যা থেকে পাওয়া যায় মুক্তি।

২. নিজের ভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করা: কম কথা বললে, অনেকটা সময় নিজের সঙ্গে কথা বলা যায়। নিজের ভিতরে থাকা নানা প্রসঙ্গের সম্মুখীন হওয়া যায়। নিজেকেও দেওয়া যায় জবাব। ফলে মনে থাকা নানা ভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

৩. মনঃসংযোগে সুবিধে হয়: সারাদিন বকবক করলে কোনও কাজই সঠিকভাবে সম্পাদন করা যায় না। এমনকী বেশি কথা বললে করা যায় না মনঃসংযোগও। এদিক থেকে মৌনব্রত আমাদের মনঃসংযোগ করতে সাহায্য করে।

৪. দুশ্চিন্তা এড়ানো যায়: কথা বেশি বললে, অন্যরাও আপনার বিরুদ্ধে কথা বলবে। আর সেই কথা শুনে বাড়বে দুশ্চিন্তা। তাই মৌনব্রত রাখলে দুশ্চিন্তাও অনেকটাই এড়ানো যায় বলে মত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top