Physical Health - শরীর স্বাস্থ্য

৩৯ বছরের নীচের ব্যক্তিদের মধ্যে রোগ উপসর্গ সবথেকে কম, করোনা নিয়ে সতর্ক থাকুন

corona

করোনাকে (Corona) সঙ্গে করে প্রায় দুই বছর আমরা ঘর করছি। এই ভাইরাস প্রায়ই নতুন কোনও না কোনও খেল দেখায়। এবার সেই খেলার অঙ্গ হল করোনার নতুন রূপ ওমিক্রন। এই ওমিক্রন (Omicron) নিয়ে গোটা পৃথিবীর চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের ঘুম ছুটে গেছে।

তবে এসবের মাঝেই একটা খবর আপনাকে সামান্য স্বস্তি দিতে পারে। সম্প্রতি একটি গবেষণা জানাচ্ছে, করোনা আক্রান্ত ১০ জনের মধ্যে ৪ জনেরই কোনও রোগের উপসর্গ থাকে না (Asymptomatic)। অর্থাৎ প্রায় ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে কোনও রোগ লক্ষণ ফুটে ওঠেনি।

বিশেষজ্ঞদের কথায়, করোনার জন্য বহু মানুষই ভীষণ সমস্যা পড়েছেন। হয়েছে নিউমোনিয়া থেকে শুরু করে অন্যান্য ফুসফুসের সমস্যা। আবার কেউ হারিয়েছেন প্রাণ। তবে সত্যি বলতে, বহু ক্ষেত্রে এই ভাইরাস (Covid) তেমন সমস্যা তৈরি করতে পারেনি। এমনকী বিন্দুমাত্র উপসর্গ দেখা যায়নি এমন মানুষও অনেক রয়েছেন। এই গবেষণার তারাই প্রমাণ।

গবেষণা
চিনের পেকিং বিশ্ববিদ্যালয় এই গবেষণাটি করেছে। তাঁরা ৯৫টি সিস্টেমেটিক গবেষণার ফলাফল সঙ্গে রেখেছিলেন। এই গবেষণায় প্রায় ৩ কোটি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয় জামা নেটওয়ার্ক ওপেন-এ। এই গবেষণা আরও বলছে, ৩৯ বছরের নীচের ব্যক্তিদের মধ্যে রোগ উপসর্গ দেখা যাচ্ছে সবথেকে কম। অন্য বয়সের ব্যক্তিদের এই সংখ্যা অনেকটাই বেশি। বিশেষজ্ঞদের কথায়, এই বয়সের মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই বেশি থাকে বলে রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

সমস্যা কোথায়?
বিশেষজ্ঞদের কথায়, এই উপসর্গহীন মানুষ দেখে আমাদের মনে আনন্দ হতেই পারে। তবে সবক্ষেত্রে চিত্রটা এমন নয় একেবারেই। এই লক্ষণহীন মানুষগুলিও বেশ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক্ষেত্রে গবেষণা বলছে, ৪০ শতাংশ রোগী আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের কোনও লক্ষণ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। অর্থাৎ এই মানুষগুলি বুঝতেই পারছেন না যে, তাঁদের করোনা হয়েছে। তাঁরা রাস্তায় বেরোচ্ছেন, বাজার করছেন, কাজেও যাচ্ছেন। ফলে অন্যদের মধ্যে অজান্তেই ছড়াচ্ছে রোগ। অতএব, করোনার প্রকোপ বাড়ার একটা আশঙ্কা থেকেই যায়।

সমস্যা এড়াতে কী করবেন-
সমস্যা এড়াতে চাইলে প্রত্যেকটি মানুষকেই সতর্ক হতে হবে। কারণ, একমাত্র সতর্ক থাকলেই এই রোগটিকে আটকানো সম্ভব। বিশেষত, ওমিক্রনের মতো সংক্রমণযোগ্য ভাইরাস যখন আমাদের কলকাতায় চলে এসেছে, তখন একটু বেশি মাত্রাতেই সতর্কতা দেখাতে হবে। বিশেষজ্ঞদের কথায় উঠে আসছে সেই পুরানো করোনাবিধি মানার প্রসঙ্গ। তাঁদের মতে, করোনাবিধি মানতেই হবে। মাস্ক পরা হল মাস্ট। তাই, যাই হয়ে যাক না কেন মাস্ক পরতেই হবে। মাস্কই সংক্রমণ রোধ করার জন্য যথেষ্ট। হাত ধুতে হবে নিয়মিত। পাশাপাশি যতটা সম্ভব শারীরিক দূরত্ববিধি মেনে চলতে হবে। তবেই হবে সমস্যার প্রকৃত সমাধান।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top