Lifestyle - লাইফস্টাইল

ব্রেস্ট মিল্কের রং বদলে দুশ্চিন্তার কারণ ও তার সমাধান

breast feed

একজন মেয়ের সারা জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নানা পরিবর্তন। শারীরিক পরিবর্তন তার একটা বড় অংশ। একজন মেয়ের ধীরে ধীরে একটু-একটু করে বড় হয়ে ওঠার মধ্যেই লুকিয়ে আছে সেই সব পরিবর্তন।

এমনকি সন্তান জন্মের পরেও সেই পরিবর্তন চলতেই থাকে। সন্তান জন্মের পরেই স্তন থেকে কোলোস্ট্রাম নির্গত হওয়া স্বাভাবিক এবং তা বেশ গুরুত্বপূর্ণও। সেই ঈষৎ হলুদাভ কোলোস্ট্রামে থাকে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন। তবে সন্তান প্রসব করার ছয় মাস পরেও যদি স্তন্যের রং বদলাতে থাকে, তা হলে তা কি দুশ্চিন্তার কারণ? তা কি আসলে কোনও শারীরিক সমস্যার পূর্বাভাস? জেনে নেওয়া যাক সবিস্তারে।

সম্প্রতি একজন নতুন মায়ের ক্ষেত্রে একটা ঘটনা ঘটেছে। সন্তান জন্ম দেওয়ার ছয় মাস পরে তাঁর ব্রেস্ট মিল্কের রং বদলে গোলাপি হয়েছে। তা নিয়ে নানা আলোচনা এবং বিতর্কও শুরু হয়েছে।

ব্রেস্ট মিল্কের রং সাধারণত হলুদ, সাদা, ট্যান বা নীলচে রঙের হয়। যাইহোক, বিশেষজ্ঞরা বলছে, ব্রেস্ট মিল্কের রং পরিবর্তন হওয়া খুব অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। তাঁদের বক্তব্য, একজন নতুন মা নিয়মিত কী খান, তার উপরে নির্ভর করে তাঁর ব্রেস্ট মিল্কের রং।

মুম্বইয়ের ভাটিয়া হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর বিনিত সামদানি বলেছেন, বিট কিংবা কমলালেবু জাতীয় ফলের মতো পানীয় বা খাবার খাওয়ার পরে ব্রেস্ট মিল্কের রং বদলে যেতে পারে। তা কমলা বা লালচে হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

আবার কখনও ব্রেস্ট মিল্ক দেখলে মনে হতে পারে তাতে যেন সবুজ, গোলাপি বা লাল আভা রয়েছে। কখনও কখনও, সামান্য রক্ত এমনকি বুকের দুধে প্রবেশ করতে পারে যা ব্রেস্ট মিল্কে বাদামি রঙের আভা দেয়। সেটি অবশ্য নতুন মা কী খাচ্ছেন বা তাঁর শরীরে কোনও সংক্রমণ আছে কি না, তার নির্ভর করে, এমনটাই জানাচ্ছেন ডঃ সামদানি।

ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন অনুসারে, সেরাটিয়া মার্সেসেনের উপস্থিতির কারণে ব্রেস্ট মিল্কের রং গোলাপি হয়ে যেতে পারে। এটি একটি ব্যাকটেরিয়া যা বিভিন্ন রোগ এবং এমনকি মৃত্যুর সঙ্গেও যুক্ত। গুরগাঁওয়ের ক্লাউড নাইন হাসপাতালের গাইনোকোলজিস্ট এবং সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডাঃ রিতু শেঠি বলছেন, ব্রেস্ট মিল্কের রং বদলালে অবশ্যই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রক্ত পরীক্ষা করা দরকার।

তিনি আরও জানাচ্ছেন, ‘এটি স্তনে সংক্রমণের কারণে হতে পারে। স্তন থেকে আগের রক্তাক্ত স্রাব যা রোগী হয়তো লক্ষ্যই করেননি বা ব্রেস্টের নালীর মধ্যে ক্যানসার ইত্যাদি নানা সমস্যা তৈরি হতে পারে।’ তাই, দেরি না করে একবার রক্ত পরীক্ষা করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তবে ক্যানসার হলে আরও কিছু লক্ষণ স্পষ্ট হয়, ডাঃ শেঠি সেই লক্ষণগুলি নিয়ে নিচে বিশদে আলোচনা করেছেন।

ব্রেস্ট ক্যানসারের লক্ষ্ণণ-

১) স্তনে ভার অনুভূত হওয়া;

২) স্তনে পিণ্ড বা কোনও ধরনের লাম্প অনুভূত হওয়া;

৩) ব্রেস্ট নিপলে ফাটা ভাব ইত্যাদি।

পূর্বে স্তন থেকে অস্বাভাবিক স্রাব, গর্ভাবস্থার আগে বা গর্ভাবস্থায় যদি এই লক্ষণগুলির মধ্যে কোনও একটি উপস্থিত থাকে, তবে রোগীর বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় স্তন থেকে রক্ত আসতে পারে। পাশাপাশি তিনি আরও জানাচ্ছেন, ব্রেস্টে ক্যানসার আছে কি না, তা একমাত্র পরীক্ষার মাধ্যমেই জানা সম্ভব। তাই ব্রেস্ট মিল্কের রং বদলালে খারাপ চিন্তা না করে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন এবং তাঁর পরামর্শ মেনে পরীক্ষা করুন।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top