Mental health মনের যত্ন

পড়া মনে রাখতে অসুবিধে, চঞ্চল মনই কারণ নয় তো

study

ছোটদের ভুলে যাওয়াটা সহজাত ব্যাপার। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। যেহেতু বাচ্চারা একসঙ্গে অনেক কিছু মনে রাখার চেষ্টা করে। সেই কারণে এমনটা হয়। বয়স আন্দাজে যে স্মৃতিশক্তি বাচ্চাদের থাকে তার থেকে বেশি তাদের চিন্তাভাবনা করতে দেখা যায়। পড়া মনে রাখতে অসুবিধে, চঞ্চল মনই কারণ নয় তো

এছাড়াও শিশুদের কোনও একটা বিষয়ের মধ্যেই চিন্তাভাবনা থেমে থাকে না। একইসঙ্গে অনেক বিষয় তাদের মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকে। এই কারণে ভুলটা বেশি লক্ষ করা যায় বাচ্চাদের মধ্যে। কারণ সব বাচ্চার স্মৃতিশক্তি সমান হয় না। একই সঙ্গে একাধিক চাপ বাচ্চাদের মাথায় পড়লে স্বভাবতই তাদের ভুল বেশি হয়। সঠিক জিনিস তারা ভুলে যেতে থাকে। মন পড়াশোনা থেকে অন্যদিকে চলে যায়।

ছোটরা ভুলে যায় কেন?
শিশুদের ভুলে যাওয়ার কারণ হল ওরা যে বিষয়টা নিয়ে পড়াশোনা করছে সেদিকে মনোযোগ ঠিকমতো দেয় না। এই কারণে ভুলে যায়।
ছোটদের কোনও জিনিস অভ্যাসে পরিণত না করলে তারা ভুলে যেতে থাকে।
কখনও একই সঙ্গে পরপর একাধিক বিষয় পড়ানো হলে কোনওটাই ঠিকঠিক শিশুদের মনে থাকে না। একটার ঘাড়ে অন্যটা চেপে যায়, এর থেকে বাচ্চাদের ভুল হতে থাকে।
এছাড়াও বাড়ির অভিভাবকদের বাচ্চাদের ওপর অত্যাধিক প্রত্যাশার চাপ থাকলে তারা মনোনিবেশ করতে পারে না। তারা মানসিক চাপে ভুল করে বসে।

অভিভাবকদের কি কি বিষয় মাথায় রাখা উচিত
শুধুমাত্র পাতার পর পাতা পড়ালেই হবে না। অভিভাবকদের যুক্তি দিয়ে শিশুদের পড়াতে হবে। প্রয়োজনে কোনও জিনিস শনাক্ত করে দেখিয়ে সেই বিষয়টা সম্পর্কে বোঝাতে হবে।
বাচ্চাদের মনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শেখানো উচিত। অর্থাৎ বাস্তবের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা বজায় রাখলে শিশুদের মনের সঠিক বিকাশ ঘটতে থাকে।
চেয়ার-টেবিলে বাচ্চাদের পড়ানোর অভ্যাস করতে হবে।
বেশিক্ষণ ধরে পড়লেই হবে না, সঠিক নিয়মে পড়াশোনা করতে হবে। প্রয়োজনে পাঠ্য বই থেকে বেরিয়ে এসে ছবি দেখিয়ে শিশুদের বোঝাতে হবে, যাতে তাদের মনে বিষয়টা গেঁথে যায়। এর থেকে শিশুদের ভুল কম হয়।

ভুল থেকে ছোটদের কি হতে পারে
বাচ্চাদের সঠিক গাইডেন্স না দিলে তাদের ভুলের মাত্রা বাড়তে থাকবে, এর থেকে অ্যাংজাইটি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
পড়াশোনা ঠিকঠাক করলে রেজাল্ট খারাপ হয়। বাড়ির অভিভাবকদের কাছে শিশুরা বকাবকির কারণে আরও অবাধ্য হয়ে ওঠে।
বার বার খারাপ নম্বর পেলে অন্যান্যদের সামনে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয়, এর থেকে বাচ্চাদের মনে হীনমন্যতা দেখা যায়।
সব বাচ্চার বুদ্ধি সমান নয়। এইদিকটা বাবা ও মা-কে বুঝতে হবে। সেক্ষেত্রে বাচ্চাদের ওপর চাপ দিলে হবে না, বাচ্চা যদি পড়াশোনার পর ভুলে যায়, তাদের সহযোগিতা করতে হবে। প্রয়োজনে বার বার বিষয়টা বোঝাতে হবে।
বাবা-মায়েরা কি করবেন
বাবা-মাকে সঠিক পদ্ধতিতে পড়াশোনা বোঝাতে হবে। শুধুমাত্র সঠিক পদ্ধতিতেই নয়, বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে।
মানসিক চাপ বাচ্চাদের না দিয়ে, খেলার ছলে যে কোনও জিনিস শেখানোর চেষ্টা করতে হবে।
শিশুদের অন্য কারোর সঙ্গে তুলনা না করাটাই ভালো।
পড়াশোনার বাইরে বাচ্চারা ঠিক কোন জিনিস ভালোবাসে সেই দিকে নজর দিতে হবে। কারণ বাচ্চার ওপর কোনও কিছু জোর আরোপ না করে তার ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিলে ভালো হয়।
বাচ্চারা বড় হলেই তাদের প্রতিযোগিতার স্তরে নামিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।
যা কিছু শেখাতে হবে ভালোবেসে। প্রতিযোগিতাকে লক্ষ্যমাত্রা না করে, ধাপে ধাপে সঠিক পথে চলার পরামর্শ দিন।
বাচ্চারা একা থাকলে সে সঠিক পথে চালিত হয় না। এর জন্য বাবা-মাকে যতটা সম্ভব বাচ্চাদের সময় দিতে হবে।

–ডঃ কেদার রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top