Mental health মনের যত্ন

স্কুল থেকে হোমওয়ার্ক, শিশুদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কতটা ক্ষতিকারক

study

ভূতের মতো ছোটদের তাড়া করে বেড়ায় ভয়। আর এই ভয় থেকেই ক্রমশ জাঁকিয়ে বসে টেনশন। নিস্তার নেই ছোটদেরও৷ আমরা বড়রা ভাবি ওদের কিসের টেনশন? কেনই বা টেনশন? আজকালকার দিনে খুদে মন বোঝা ভারি মুশকিল- জানালেন সাইকোলজিস্ট ডঃ তন্ময় মিত্র। স্কুল থেকে হোমওয়ার্ক, শিশুদেরও টেনশন মুক্তি নেই

ছোটদের সত্যিই কি টেনশন হয়?
টেনশন সবারই হয়। ছোট বলে কোনও ছাড় নেই। মূলত ওদের ভয় থেকেই টেনশনের শুরু। বোধবুদ্ধি না-হওয়া শিশুকে, অভিভাবকরা বিপজ্জনক কিছু জিনিসে ভয় ধরান। যেমন, আগুন, জল, অন্ধকার। এটা জরুরিও। কিন্তু অনেক বাচ্চার পরে এগুলো থেকেই টেনশন শুরু হয়।

ছোটরা মূলত কী নিয়ে সবচেয়ে বেশি টেনশন করে?
স্কুল আর পরীক্ষা। ৯০ শতাংশ ছেলেমেয়ে এই টেনশনের শিকার।

স্কুলে যেতে কীসের টেনশন?
এক তো বাধাধরা নিয়মশৃঙ্থলা। তার ওপর বাড়ির প্রিয়জনদের ছেড়ে দীর্ঘক্ষণ থাকা। এসব থেকেই টেনশন তৈরি হয় ছোটদের।

শুধু দু’টো কারণ! এটা তো অভ্যেস হয়ে যাওয়ার কথা?
অনেকেরই অভ্যেস হয়। আবার কেউ কেউ অভ্যস্ত হতে পারে না। বাড়ির লোকেদের প্রশ্রয়েও অনেকে স্কুলে না-যাওয়ার অভ্যেস তৈরি করে ফেলে। পরে স্কুলে পাঠানো মুশকিল হয়। স্কুলে না-যাওয়ার জন্য জবাবদিহিরও ভয় মনে গেঁথে যায়।

আবার, স্কুলে কোনও টিচারকে ভয় পেয়েও তারা টেনশন করতে থাকে। পড়া বলতে বা বুঝতে না-পারার থেকেও টেনশন আসে ছোটদের।

স্কুলের টেনশন কাটবে কীভাবে?
এক্ষেত্রে ছাত্র বা ছাত্রীর সঙ্গে বাবা-মা’র কাউন্সেলিং জরুরি। কোনও টিচারকে ভয় পেলে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করাও দরকার অভিভাবকদের।

পরীক্ষার টেনশনটা কীরকম?
এটা মানসিক চাপের ব্যাপার। প্রশ্ন কমন না পাওয়ার ভয়, তার ওপর বাবা-মায়ের চাহিদা পুরণ করতে পারবে কি না সেটাও প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। একেবারে ছোটবেলায় “ইন্টারভিউ” দেওয়াটা সত্যিই একটা চাপ। ক্লাস ওয়ান বা ফাইভে আাডমিশন টেস্ট- নামী স্কুলে ভর্তি হওয়ার প্রত্যাশা- সব কিছুরই প্রভাব একটা পড়ে।

চোখের সামনে কোনও দুর্ঘটনা দেখলে কি ছোটদের বেশি টেনশন হয়?
এক্ষেত্রে মন খারাপটাই বেশি হয় ছোটদের। বোঝান মুশকিল হয়। পরে হারানোর ভয় থেকে একটা টেনশন তৈরি হয়। এসব ক্ষেত্রে টেনশনে বাচ্চাদের আচরণটাই পাল্টে যায়।

এখন অনেক বাড়িতে একা থাকতে হয় ছোটদের। বাবা-মা দু’জনেই চাকরিতে বেরোন। সে থেকে কি টেনশন আসে?
খুব কম। আসলে ছোটরা ওভাবেই অভ্যস্ত হয়ে যায়।

আপনারা কীভাবে এর সমাধান করেন?
ছোটদের বোঝা ও বোঝানোটাই বড় উপায়। সাহস, ভরসা দেওয়া, নির্ভরশীলতাও দরকার ছোটদের।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে টেনশন রিল্যাক্সসেশন এক্সারসাইজ করানো হয়। কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ খাওয়াতেও হয়।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top