Mental health মনের যত্ন

কম বয়েসীদেরও ডিমেনশিয়া হয়, লক্ষণ দেখে বুঝে নিন

child

কমবয়সিদের ক্ষেত্রে সাধারণত ডিমেনশিয়া হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে কিছু কিছু জিনগত কারণে বার্ধক্যের অনেক আগেই কারও কারও মস্তিষ্কে নানা বিধ সমস্যা দেখা যায়। তবে ভূলে যাওয়ার সমস্যা যে কেবল বয়ষ্কদেরই হতে পারে এমনটা নয়। কম বয়েসীদেরও ডিমেনশিয়া হয়, লক্ষণ দেখে বুঝে নিন, আরও কিছু কিছু কারণে স্মৃতিভ্রংশ হতে পারে।

মনঃসংযোগে অসুবিধা হওয়া-

ভুলে যাওয়া মানেই কি ডিমেনশিয়া?

সমস্ত ভুলে যাওয়ার উপসর্গই কিন্তু ডিমেনশিয়া নয়। এগুলিকে ডাক্তারি ভাষায় Mild Cognitive Impairment বলেখুঁটিনাটি জিনিস মনে রাখতে না পারা,
মনঃসংযোগে অসুবিধা হওয়া,
পরিকল্পনা করা,
ঘটনার যৌক্তিকতা বুঝতে না পারা,
অনেকক্ষেত্রে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বা কিছু শারীরিক রোগে, যেমন – অবসাদ, উদ্বেগ বা থাইরয়েড রোগ দেখা দিতে পারে। রোগটির চিকিৎসা হলে অনেকক্ষেত্রেই এই উপসর্গগুলির প্রাবল্য কমে।

স্মৃতিভ্রংশ এড়ানোর উপায় কি?

ডিমেনশিয়াকে এড়ানোর উপায় নিয়ে প্রচুর গবেষণা চললেও এখনও খুব সফল কোন উপায় খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে কিছু কিছু কারণ (Risk Factors) খুঁজে পাওয়া গেছে যার কোনও কোনোটির প্রতিকার সম্ভব।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে ডিমেনশিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে, কিন্ত হবেই এমন কোনও কথা নেই। ডিমেনশিয়া বার্ধ্যকের মতো ভবিতব্য নয়;

কানে শোনার ক্ষমতা চলে গেলে পারিপার্শ্বিককে জানা বোঝার এক অন্যতম যন্ত্র হারিয়ে যায়।
কানে শুনতে না পারা ডিমেনশিয়া সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে;
মানসিক অবসাদ রোগ হিসাবে চিহ্নিত না হয়ে উঠলে বা তার চিকিৎসা না হলে ডিমেনশিয়া শুরু হতে পারে;
সামাজিক একাকীত্ব ও কর্মময় জীবনের অভাব ডিমেনশিয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়;
ধূমপায়ী, মদ্যপায়ী, উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বির পরিমাণ বেশি এমন রোগীদের ক্ষেত্রে ডিমেনশিয়া হওয়ার সম্ভাবনা স্বাভাবিক মানুষের তুলনায় বেশি।
সাধারণত চল্লিশ বছরের কমে স্মৃতিভ্রংশ দেখা দেবার সম্ভাবনা কম। কিন্তু পরিচিত নাম ভুলে যাওয়া, রাস্তা হারানো, কয়েকদিন আগের ঘটনা মনে করতে না পারা ইত্যাদি ঘটলে ।

চিকিৎসা

এখনও পর্যন্ত ডিমেনশিয়ার স্থায়ী কোনও প্রতিকার বা চিকিৎসা খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে কিছু দূর পর্যন্ত এটাকে আটকানো সম্ভব। ওষুধ ছাড়া আরও বেশ কিছু পদ্ধতি আছে। রোগী অন্তত নিজের দৈনন্দিন কাজটুকু যাতে করে উঠতে পারেন।

যাতে এই দীর্ঘ যাপিত জীবনের সমস্ত স্মৃতি হারিয়ে নেহাত স্থান-কাল-সময় বিছিন্ন হয়ে শেষ সময়টা কাটাতে না হয় তার কিছুটা উপায় করা যায়। যেমন-

কগনিটিভ রিহ্যাবিলিটেশন থেরাপি

এতে দক্ষ সাইকোলজিস্ট ও রোগীর কাছের মানুষের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। এই পদ্ধতিতে রোগীর সাথে বন্ধুর মতো মিশে রোজকার কাজে সাহায্য করা।

একটু একটু করে ধরিয়ে দেওয়া, মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে শেখানো ইত্যাদি করা হয়।

এছাড়াও রোগীর সাথে পুরাণো দিনের গল্প করা, রোগীর অতীতের গল্প শোনা, সেসব নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা।

আগ বাড়িয়ে শুনতে চাওয়া ও তার সাথে বর্তমানের যোগস্থাপন করতে করতে যাওয়া যেতে পারে।

রোগীর পছন্দের সিনেমা দেখানো, গান শোনানো ইত্যাদিও এর অংশ। এতে রোগীর রাগ না কমুক, রোগী অন্তত মানসিকভাবে আনন্দে থাকতে পারেন।

একাকীত্ব-এর বাড়তি বোঝা কিছুটা কমে। অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গেও লক্ষণীয় পরিবর্তন আসে।

তবে রোগ জটিল আকার নিয়ে থাকলে এতে খুব উপকার হয় না।

স্মৃতিভ্রংশে ভোগা মানুষ কখনও অযৌক্তিক রাগ বা ভয় পেতে পারেন। সহানুভূতির সঙ্গে তাদের সমস্যা বিবেচনা ও তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়ানো একান্ত প্রয়োজন।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top