Mental health মনের যত্ন

সন্তানকে সময় থাকতে বুঝুন, ব়্যাগিং- বিকৃত মানসিকতারই পরিচয়, সতর্ক হন

mental health

ঠিক কোন অবস্থায় একটি স্কুলের ছেলে নির্মমভাবে অত্যাচার চালায় তারই সহপাঠীর উপর? কেন কয়েকজন ছাত্রের দল সমবেতভাবে নিপীড়ন চালায় ক্লাসের অন্যদের উপর? স্ট্যানলী মিলগ্রাম ইয়েল ইউনিভাসর্সটিতে এক পরীক্ষায় দেখিয়েছিলেন অথরিটি অর্ডার বা আদেশ দিলে অনুগামীরা অন্যদের উপর অবর্ণনীয় অত্যাচার চালাতে পারে। এই অর্ডার আসে ক্লাসের কোনও লিডারের কাছ থেকে।

স্কুলের বা কলেজের অত্যাচার বা ব়্যাগিং নিয়ে তিনরকমের যুক্তি আছে

প্রথমত, ব়্যাগিং নাকি পুরনো ও নতুনদের যোগাযোগ ও মানসিক সম্পর্ক স্থাপনের অনবদ্য উপায়। এই পদ্ধতিতে দু’দল- অর্থাৎ নবাগত ও পুরাতন ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে একটা অটুট বন্ধুত্ব ও সহমমর্মতা গড়ে ওঠে।
দ্বিতীয়ত, নবাগত ছাত্রছাত্রীদের মানসিক ভয় ও লজ্জা বা সঙ্কোচ কাটানোর এ নাকি এক উৎকৃষ্ট উপায়।
তৃতীয় এবং সবচেয়ে অকাট্য যুক্তি ব়্যাগিং নাকি নবাগতদের পৃথিবীর বাস্তবতার সঙ্গে পরিচয় ঘটায়। এর মাধ্যমে নাকি নবাগত ছাত্রছাত্রীরা বাইরের জগতের রূঢ়তার সঙ্গে লড়াই করার রসদ পায়।

প্রথম যুক্তি
কিন্তু ভাবুন না যদি আপনি প্রতিবেশী কারো সঙ্গে ভাব জমাতে চান তাহলে কি আপনি তাকে পিছন থেকে ধাক্কা মেরে বা বারান্দা থেকে তার মাথায় এক বালতি জল ঢেলে আশা করবেন আপনাদের পরিচয় ক্রমশ গভীর বন্ধুত্বে পরিবর্তিত হবে?

দ্বিতীয় যুক্তি
ব়্যাগিংকে লজ্জা ও সঙ্কোচ কাটানোর বিশেষ উপায় বলে মনে করাটা কতটা যুক্তিযুক্ত? মনোবিজ্ঞানে কোথাও এমন কোনও থিওরি নেই, যাদের লজ্জা বা সঙ্কোচ বেশি তাদের শারীরিক, মানসিক অত্যাচারের মধ্যে ফেললে ওই সমস্যা কমে যায়। বরং এসব ক্ষেত্রে এদের মানসিক বিপর্যয়ের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।এই মানসিক বিধ্বস্ততা কাটিয়ে উঠতে না পারার ফলে এই ছাত্রছাত্রীরা ‘ব়্যাগিং-এর অত্যাচারে আত্মহত্যা’-এর মতো মর্মান্তিক খবরে পরিণত হয়।

তৃতীয় যুক্তি
ব়্যাগিং-এর সমর্থকদের দাবি এটা জীবনে চলার পথে বাস্তবতার অতিপ্রয়োজনীয় শিক্ষা। এক্ষেত্রে ব়্যাগিং যারা করছে তারা এক বা দুই বছরের সিনিয়র ছাত্রছাত্রী।

এই গত এক বছরের মধ্যে পৃথিবীর কঠিন রূঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলার সব কৌশল তারা করায়ত্ত করে ফেলেছে এমনটি সেক্ষেত্রে ধরে নিতে হবে !

কয়েক সপ্তাহব্যপী এই অভ্যর্থনা কর্মশালার মাধ্যমে তারা এই অমূল্য টিকে থাকার মন্ত্রে এই নবাগতদের শিক্ষিত করে তুলতে পারবে এমনটা নাকি সত্যি !

মনে রাখা দরকার ব়্যাগিং-এর নামে যা চলে তাতে মিশে থাকে একরকম ‘স্যাডিজম’, যা বিকৃত মানসিকতারই পরিচয় দেয়।

বন্ধুত্ব তৈরি বা প্রতিকূল পরিবেশে মানানো ইত্যাদি যে সংজ্ঞাই দেওয়া হোক না কেন- ব়্যাগিং কিন্তু একধরনের বিকৃতি, যা শুভবুদ্ধি ও সুষ্ঠ মানসিকতার বিপরীতধর্মী।

লেখক- ডঃ তন্ময় মিত্র (বিশিষ্ট মনোবিদ)

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top