Mental health মনের যত্ন

বাবা-মায়ের ব্যবহার শিশু মনকে তৈরি করে, তাই সাবধানে পা ফেলুন

child

ছোট বাচ্চাদের যেহেতু বোধশক্তি কম হয়, সেজন্য তারা পারিপার্শ্বিক পরিবেশের দ্বারা প্রভাবিত হয়। যা দেখে সেটাই অনুসরণ করে। এর থেকেই বাচ্চাদের মধ্যে খারাপ মনোভাব তৈরি হয়, জানাচ্ছেন- ডাঃ কেদার রঞ্জন বন্দোপাধ্যায়।

আমরা আমাদের চারপাশে অনেক বাচ্চা দেখি যারা খুব আক্রমণাত্মক বা মারকুটে স্বভাবের। দেখা যায় এইসব বাচ্চারা স্কুলে অন্য বাচ্চাদের অকারণে মারছে, ঠেলে ফেলে দিচ্ছে, বা অন্য বাচ্চাদের টিফিন ফেলে দিচ্ছে বা তাদের বইখাতা ফেলে দিচ্ছে।

আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই গঠনমূলক এবং ধ্বংসাত্মক দিক থাকে। এই গঠনমূলক মনোভাবের ফলে আমাদের মধ্যে ভালোবাসা জন্মায়। কোনও কিছুর প্রতি আগ্রহ জন্মায়। আবার আমাদের মধ্যে এই ধ্বংসাত্মক মনোভাবের ফলে ধ্বংসের প্রবৃত্তি দেখা যায়। যার ফলে আমরা নিজেদের জিনিস নষ্ট করে বা অন্যের জিনিস নষ্ট করে, নিজেকে বা অন্যকে কষ্ট দিয়ে আনন্দ পাই।

বাচ্চার পরিবারে বা পরিবেশে যদি কোনও ত্রুটি থাকে তাহলে বাচ্চার মধ্যে মারকুটে মনোভাব দেখা যায়। যেমন-
শারীরিকভাবে খুব নির্যাতন অর্থাৎ বাচ্চাটিকে খুব মারধর করে বা সবসময় খুব কটু কথা বলে তাহলে বাচ্চার মধ্যে এধরনের ভিন্ন মনোভাব তৈরি হতে দেখা যায়।
মা-বাবা দুজনেই যদি একে অপরকে মারধর করে বা গালিগালাজ দেয় বা ভীষণ ধ্বংসাত্বক হয় তাহলে বাচ্চার মনোভাবের উপর প্রভাব পড়ে।
বাবা-মায়ের মধ্যে যদি ডিভোর্স হয়ে যায়।
পরিবার যদি আর্থ-সামাজিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়ে।
বাবা-মা যদি বেকার হয়।
সামাজিক দিক থেকে বাচ্চাটি যদি সহায়তা না পায় বা বঞ্চিত হয়।
কিছু নিউরো-বায়োলজিক্যাল কারণে এধরনের সমস্যা দেখা যায়। তাছাড়া সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম-এ ডিস ফাংশন বা ড্যামেজ থাকলেও এই ধরনের সমস্যা দেখা যায়।
তাছাড়া বাচ্চারা যদি সবসময় খুব আক্রমণাত্মক সিরিয়াল বা কার্টুন দেখে তাহলে এধরনের মনোভাব বাড়তে পারে।

বাচ্চাদের এই ধরনের আচরণ নিয়ন্ত্রণে অভিভাবকদের একটা বড় ভূমিকা আছে-

অতিরিক্ত মারধর করবেন না বা গালিগালাজ করবেন না
নিজেদের মধ্যে সবসময় অশান্তি বা ঝগড়াঝাটি করবেন না
নিজেরা একটা ডিসিপ্লিন লাইফ লিড করবেন এবং বাচ্চাটিকেও খুব ছোট থেকে নিদিষ্ট ডিসিপ্লিনে অভ্যস্ত করবেন।
বাচ্চাদের ভালোবাসবেন, জিনিস দেবেন, আদর করবেন কিন্তু তার জেদকে প্রশ্রয় দেবেন না।
যখন অন্যায় করবে তখনই তাকে শাসন করবেন।
কাদের সঙ্গে মিশছে সেটা লক্ষ্য রাখবেন।
খেলাধুলা ও ব্যায়াম করতে দেবেন। খেলাধুলা ও ব্যায়ামের মাধ্যমে বাচ্চাদের মধ্যে ডিসিপ্লিন গড়ে ওঠে।
কি ধরনের কার্টুন, সিরিয়াল দেখছে সেগুলি খেয়াল রাখবেন।
ছোট থেকেই গল্পের বই পড়া, ছবি আকা, গল্প লেখা ইত্যাদি করাবেন যাতে তাদের কল্পনা শক্তির বিকাশ ঘটে।
এরপরেও যদি দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চলতে থাকে তাহলে কাউন্সেলিং-এর দরকার হয়।
কাউন্সেলিং-এর ক্ষেত্রে বাচ্চার বাবা-মা এবং বাচ্চার কাউন্সেলিং করা হয়। আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে বাচ্চার আক্রমণাত্মক মনোভাব বেশি হলে সাইকিয়াট্রিস্ট-এর কাছে পাঠানো হয়, কারণ কিছুক্ষেত্রে বাচ্চার এই রাগ এবং মারকুটে স্বভাব কমানোর জন্য ওষুধের প্রয়োজন হয়।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top