Mental health মনের যত্ন

আরও ভালো করার প্রতিযোগিতায় তিলে তিলে শেষ হচ্ছে আপনার সন্তান! সময় থাকতে সতর্ক হন

school

আমরা যতই শারীরিক ও মানসিক ভাবে বড় হয়ে উঠি না কেন, মনের ওপর শৈশবকালের প্রভাব কিন্তু সুদৃঢ় থাকে। এমন অনেকে আছেন যারা ছোটোবেলার সেইসব দিনগুলোর নানা ছোটো ছোটো ঘটনা বা অভিজ্ঞতার কথা ভেবে হাসতে পারেন। যেমন-

সহপাঠীদের সঙ্গে টিফিন ভাগ করে খাওয়া

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে রোজ মায়ের কাছে আইসক্রিম, কুলের আচার, ঘুগনি- এসব খাওয়ার বায়না ধরা
রাস্তায় বন্ধুদের সঙ্গে সাইকেল রেস এসবই আমাদের শৈশবের সেরা সময় অর্থাৎ স্কুল জীবনের সোনালি স্মৃতি বহন করে।
বাড়ি ফিরে বিকেলবেলা পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে ছোঁয়াছুঁয়ি, লুকোচুরি, কানামাছি কিংবা দাবা ক্যারম, ব্যাডমিন্টন, ট্রামকার্ড ইত্যাদি খেলার প্রতিযোগিতা প্রতি রবিবার বাবার সঙ্গে বাজার করতে যাওয়া এগুলোও সবই আমাদের সারাজীবনের সেরা মূহুর্তগুলির মধ্যে অন্যতম।

বর্তমানে শৈশব মানেই বড় হয়ে ওঠার প্রস্তুতি

আজকের দিনের শিশুরা একদিন যখন বড় হয়ে উঠবে তখন তাদের জীবনে শৈশব বলতে সেইসব সোনালি দিনের কতটুকু স্মৃতিই বা থাকবে? কোথায় থাকবে সেই সাইকেল রেস কিংবা বিশ্বকর্মা পুজোর দিন ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতা? বর্তমানের আধুনিক তথাকথিত উন্নত ও সভ্যসমাজব্যবস্থায় ছেলেমেয়েরা এসব ভাবতেও পারেনা।

ছোটো থেকেই তাদের জীবনে মূলমন্ত্র হয়ে উঠেছে জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে নিজেকে সেরা প্রমাণ করতেই হবে কারণ এখন প্রথম ব্যতীত দ্বিতীয়দের কোনো জায়গা নেই।

এখন বাচ্চারা শৈশব বলতে বোঝে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে রাতে শুতে যাওয়া অবধি একটা ছকে বাঁধা রুটিন

সকালে ঘুম থেকে উঠেই টিউশন, তারপর আঁকার ক্লাস, বিকেলে স্কুল থেকে ফিরেই সাঁতার শিখতে যাওয়া, রাতে আবার টিউশন কিংবা অন্য কোনো উপায়ে সেরা হয়ে ওঠার প্রস্তুতি, এরই মাঝে কেটে যায় যাচ্ছে তাদের জীবনের সোনালি দিন ‘শৈশব’।

আর এভাবেই যে তাদের পরম আদরের শিশুটি শৈশব বিমুখ হয়ে পড়ছে সেটা কি তাদের সদাব্যস্ত বাবা মায়েরা বুঝতে পারছেনা? বা বুঝলেও তারা শিশুর শৈশব গঠনে কতটুকু তৎপরতা দেখাচ্ছে? ফলস্বরূপ ছোটোদের মনে চাপ পড়ে যা নানারকম শারীরিক ও মানসিক ব্যাধি ডেকে আনে।

কয়েকটি বিষয় বাচ্চাদের বাবা-মায়েদের মেনে চলা অত্যন্ত প্রয়োজন

বড়দের মতোই ছোটোদের জীবনেও বিনোদনের খুব প্রয়োজন।
বাঁধাধরা গন্ডির বাইরে বেরিয়ে খেলাধুলা, বই পড়া, এমনকী কার্টুন দেখারও প্রয়োজন রয়েছে।
স্কুলের সময়টুকু বাদ দিয়ে বাকি সময়ে শিশুকে নিজের মতো খেলতে দিন।
ব্যায়াম, সাঁতার, বিভিন্ন রকম খেলাধূলার মধ্যে থাকলে তার শরীরচর্চা ও মানসিক বিকাশ ঘটে।
অবশিষ্ট সময়ে বাবা মায়েদেরও তাদেরও সঙ্গ দেওয়া উচিৎ, মনে রাখতে হবে শিশুদের জগৎ বলতে তার বাবা মা ও পরিবার তাই সেই জগৎ থেকে শিশুকে দুরে সরিয়ে দেওয়া তার পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর যার ফল মারাত্মক হতে পারে।
কথায় আছে- পরিবারই হল প্রাথমিক বিদ্যালয়।
ছোটো ছোটো সাধারণ জ্ঞান ও সমাজের বিভিন্ন জিনিসের সঙ্গে তাদের পরিচয় ঘটানো খুব গুরুত্বপূর্ণ জরুরী।
পরিবেশের সঙ্গে বেড়ে উঠলে তাদের মানসিকতা স্বভাবতই ভিন্ন হবে।
শিশুকে আত্মকেন্দ্রিক ও ঘরমুখী না করে তুলে কিছুটা হলেও আশেপাশের পরিবেশের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দিন, পরিবারের বাইরের লোকেদের সঙ্গেও তার সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করুন।
লেখক- ডাঃ কেদার রঞ্জন বন্দোপাধ্যায়

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top