Mental health মনের যত্ন

মোবাইল নেশায় পরিণত হয়েছে, ভয়ানক হয়ে যাওয়ার আগে সাবধান হয়ে যান

mobile

সহজসন্ধি মোবাইল + আসক্তি = মোবাসক্তি! একে এই ভাষা ছাড়া অন্যভাবে প্রকাশ করা যায় কিনা আমার জানা নেই। তবে এই নতুন কথাটা তৈরি করে আনায় মনে হয়েছে এটা দিয়ে খানিকটা এই মনোভাব হয়তো বোঝানো যায়!

কি করে বুঝবেন আপনার সন্তান মোবাইলাসক্ত?
সহজ কথায় দেখবেন যখন আপনার চোদ্দ-পনেরো বছরের ছেলে বা মেয়ে বাড়ির কোনও আত্মীয়স্বজন এলেও তাদের সঙ্গে কথা না বলে ফোনে কথা বলে যাচ্ছে, অথবা পড়ার বই আর ফোন একসঙ্গে খোলা, সর্বদাই রাত্রে শুতে যাচ্ছে মোবাইল হাতে বা রাত্রে বিছানায় লুকিয়ে লুকিয়ে এস এম এস করছে অথবা আধ ঘন্টারও বেশি সময় মোবাইলে একটানা কথা বলে যাছে। বাইরে বেড়াতে গিয়ে মোবালে টাওয়ার পাওয়া যাচ্ছে না বলে চেঁচামেচি, রাগারগি করছে তখন বুঝবেন আপনার সন্তানের মোবাসক্তি হয়েছে।

ভেবে দেখুন তো এই অভ্যাসটি শুরু হল কোথা থেকে?
যদি বলি বাবা-মার কাছ থেকেই তাহলে অনেকেই ভ্রু কোঁচকাবেন। কিন্তু প্রথম মোবাইল ফোনটা কিনে দেওয়ার অছিলায় কতজন মা-বাবাকে প্রায়ই বলতে শুনবেন- “আসলে ও একা একা যাতায়াত করে তো তাই….। এই “তাই” এর মানে প্রতি পাঁচ মিনিট অন্তর-অন্তর ছেলে-মেয়ের গতিবিধির ওপর নজর রাখা।

মোবাইল ফোন বিগড়লে বা টাকা ফুরিয়ে গেলে বা চুরি হলে এইরকম ভাবনার উদয় হয়-
প্যানিক এবং উদ্বেগ
কি হবে? যদি রাস্তায় কোনও অসুবিধা হয়? যদি ও” আমাকে ফোনে না পায়, ইত্যাদি ইত্যাদি।

প্যানিক থেকে বাস্তবতা
যাক কি আর হবে- দরকারে পি সি ও আছে।

চারদিক উদাসী দৃষ্টি ছড়ানো
কতদিন আপনি কানে ফোন দিয়ে হাটতে হাঁটতে রাস্তার পাশের গাছের অদ্ভুত সবুজ পাতাগুলো দেখেননি! উল্টোদিক থেকে হেঁটে আসা বৃদ্ধ ভদ্রলোক যেন প্রফঃ শঙ্কুর মতো নয়! বাঃ, নতুন ছোট ঘর সাজানোর জিনিসের দোকানটা বা সেলুনটা কবে খুলল এ পাড়ায়? মনে এক হঠাৎ এক খুশির ভাব আমাকে কেউ এখন পাবে না- সৌরভ বা সেমন্তী কেউ জানতে পারবে না মনে মনে গুন গুন “কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা…”

Girl_chating
আসুন দেখা যাক মোবাসক্তির অসুবিধা
প্রধানত পড়াশুনা বা অন্যান্য প্রডাক্টিভ কাজের ক্ষতি;
মোবাইল টেক্সটের বিচিত্র ভাষা রপ্ত করতে গিয়ে আসল ইংরেজি ভুলে যাওয়া;
ক্রমশ আসক্তি-রাত্রে কথা বলা অথবা ক্রমাগত না ঘুমিয়ে টেক্সট করা;
দামী আরও দামী ফোনের জন্য যে ভাবেই হোক আরও টাকা যোগাড় করা;
দামী ফোন না থাকার জন্য লঙ্জিত বোধ করা, বন্ধু-বান্ধবের কাছে অপদস্থে পড়া;
রাস্তাঘাটে ফোনে কথা বলতে বলতে চলায় দুর্ঘটনার শিকার হওয়া;
ইনআ্যাটেনশন ব্লাইন্ডনেস- কথা বলতে বলতে চলার সময় পথে গাড়ি দেখতে না পাওয়া;
কগনেটিভ লোভ- অন্যমনঙ্কতার জন্য প্রায়ই ভূল হওয়া;
বলা বাহুল্য মোবাইল রেডিয়েশন বিপদ নিয়ে অনেক কথা বলা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা সমাধান করেছেন এবং WHO-এর সাবধান বাণীও রয়েছে যে, ক্রমাগত টানা মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে কানে ও মাথার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সচেতনতা অবলম্বন করে মোবাইল আসক্তি কাটিয়ে উঠে এটি প্রয়োজনে ব্যবহার করুন এবং সুস্থ থাকুন।

লেখক- ড. তন্ময় মিত্র

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top