Mental health মনের যত্ন

মানসিক বিকাশের অন্তরায় কম্পিউটার গেম, সাবধানে রাখুন সন্তানকে

game

গ্লোবালাইজেশনের যুগে মানুষের পিছিয়ে পড়ার উপায় নেই। প্রতি মুহূর্তে প্রাকৃতিক নিয়মের ঘেরাটোপ থেকে পালিয়ে মানুষ আশ্রয় নিচ্ছে টেকনোলজির ছত্রছায়ায়। ফলত তাদের প্রতি পদে শিকার হতে হচ্ছে এই প্রযুক্তিবিদ্যার হাতে। বিজ্ঞানের সুফল নিয়েই মত্ত পৃথিবী, কিন্তু কুফল! তা তো ক্রমশ জাল বুনে চলেছে সবার অলক্ষে, যার প্রভাব হতে পারে ভয়াবহ।

তারই একটি বিশেষ দিক তুলে ধরলেন ডা. কেদার রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। মাথা উচু করে দণ্ডায়মান সারি সারি অট্টালিকার ফাঁকে চোখে পড়ে হারিয়ে যাওয়া শৈশব, কাটা ঘুড়ির মত উড়ে চলেছে বহু দুর। তাই শিশুদের কাছে এখন খেলা মানেই গড়ের মাঠ, সবুজ ঘাস আর কাদামাটি নয়, অধিকাংশের কাছে পড়ার ফাঁকে দুদন্ড রেহাই মানে কম্পিউটার গেম।

তবে বিষয়টি এতটাও হালকা নয়, কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা শান্ত শিশুটিকে দেখে হয়তো অনেকেই মনে করেন “যাক বা-বা বাঁচা গেল, কিছু একটা নিয়ে তো চুপ করে আছে।” ভুলের সূত্রপাত সেখান থেকেই।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ৮ বছর বয়সের শিশুদের একটানা তিন ঘন্টার বেশি কোনও পোর্টেবেল মাধ্যমের সামনে থাকা উচিৎ নয়। এর ফলে চোখের থেকেও আরও মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে মস্তিষ্ক গঠনে।

ঠিক কি কি সমস্যা দেখা দিতে পারে-

গেমের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে অনেকাংশে শিশুর চরিত্র গঠন। অধিকাংশ সময় দেখা গেছে শিশুর মধ্যে হিংসাত্মক মনোভাব বেড়ে চলেছে উত্তরোত্তর।
প্রয়োজনের থেকে বেশি সময় কম্পিউটারের সামনে থাকায় কমতে থাকে Extra Curricular Activities যেমন- বই পড়া, লেখা, খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করা প্রভৃতি।
সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার প্রবণতাও থাকে বেশি।
পড়াশুনায় ক্রমশ পিছিয়ে পড়া, অতিরিক্ত পরিমাণে সময় কম্পিউটারের সামনে কাটানো, ফলে মস্তিষ্কে ক্লান্তিভাবের সৃষ্টি হয়, যার ফলে পড়াশুনায় অমনোযোগী হওয়াই স্বাভাবিক।
একাধিক শারীরিক সমস্যা লক্ষ্য করা যায় যেমন- Obesity, Musculoskeletal এবং Postural Disorder, এছাড়া চোখের সমস্যা তো আছেই।

এই ধরনের গেমের গঠন, গ্রাফিক্স এবং নিয়ম শিশুদের কাছে নৈতিকতার মান বদলে দেয়, নিয়মের ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে এদের বাস এক ভিন্ন ভারচ্যুয়াল ওয়ার্ডে, যার সাথে বাস্তবের বিস্তর ফারাক।
যারা অতিরিক্ত গেম খেলে অভ্যস্থ তাদের মধ্যে দেখা গেছে অন্যদের তুলনায় অশ্লীল ভাষা প্রয়োগের প্রবণতাও বেশি।
এরা বাস্তবের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতেই বেশি পচ্ছন্দ করে।
পরিবারের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একা থাকার প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
কল্পনার জগতেই বাস এদের অধিকাংশের।
বাস্তব পরিস্থিতি সামলে উঠতে প্রতিপদে ঘটে আত্মবিশ্বাসের অভাব। যার ফলে এরা সকলের মধ্যে থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখতে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন সময় থাকতে এ সমস্যার প্রতিকার না করতে পারলে ভবিষ্যতে কিন্ত ফল হতে পারে মারাত্মক। এই প্রকারের লক্ষণ দেখা দিলে আপনার সন্তানের প্রতি আরো যত্নশীল হয়ে উঠুন।
সময়ের সাথে চলতে শেখান, সারাদিনের ২৪ ঘন্টাকে একটি নির্দিষ্ট নিয়মে বেঁধে ফেলুন। যেখানের কম্পিউটার গেমের জন্য ২ ঘন্টার বেশি সময় রাখবেন না।
যদি গেম খেলা থেকে সন্তানতে আটকাতে না পারেন তাহলে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিন খেলার সমস্ত পথ।
অন্যান্য উপায় সন্তানকে ব্যস্ত করে দিন।
অপ্রয়োজনে ছোটদের হাতে মোবাইল ফোন দেবেন না।
স্কুল শিক্ষার দৌরাত্ম্য সামাল দিতে অধিকাংশ অভিভাবকদের হয়ত কম্পিউটার প্রয়োজনের পূর্বেই সন্তানের হাতে তুলে দিতে হয়, তবে তা যে একান্ত তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি, যখন-তখন যেভাবে ইচ্ছা তা ব্যবহার করা যায়, এই ধারনা তাদের মধ্যে তৈরি হতে দেবেন না। তাহলেই দেখবেন অপ্রয়োজনে যেমন তারা টিভি দেখতে ভয় পায়, আপনাদের অনুমতির অপেক্ষায় থাকে, তেমনই কম্পিউটারে বসার আগেও আপনার অনুমতির প্রয়োজন হবে।

 

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top