Mental health মনের যত্ন

সন্তানকে মনের মত করে বড় করতে চান, বয়ঃসন্ধিতে তবে চাই আপনার বন্ধুত্ব

child

সন্তানের বয়ঃসন্ধির সময়ে অভিভাবক ভূমিকা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করলেন- বিশিষ্ট সাইকিয়াট্রিস্ট ডাঃ কেদার রঞ্জন বন্দোপাধ্যায়।

সন্ধি কথার মানেই কোন অধ্যায়ের শেষ এবং অপর অধ্যায়ের সুচনা। আপনার শিশু জন্মানোর পর থেকে ওর জীবনের ছোট বড় নানা অধ্যায়ের সাক্ষী হয়েছেন আপনি। বন্ধুর মতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ওর প্রতিটা পদক্ষেপে। বয়ঃসন্ধি যে কোনও ছেলে/মেয়ের জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা সময়। মূলত ১১ বছর বয়স থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত সময়কে বয়ঃসন্ধি হিসেবে ধরা হয়।

বয়ঃসন্ধির ছেলেমেয়েদের মধ্যে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন দেখা যায়। যেমন-

কৈশোর বয়সে প্রবেশকালে বেড়ে যায় আত্মসম্মান বোধ। তাই ছোটখাট বিষয়েও অভিমান করে;
বন্ধু-বান্ধবীকে পরম আপনজন মনে হয়। দূরত্ব বাড়তে থাকে বাবা-মা, নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে।
বয়ঃসন্ধির সময় যে কোনও মানুষকেই এরা নিজেদের রোল মডেল ভেবে নেয়। সেই মানুষ যেমন কোন নামিদামি ব্যক্তিত্ব হতে পারেন, তেমনই নিজের চারপাশে থাকা শিক্ষক-শিক্ষিকা অথবা বাবা-মা হতে পারেন;

যে সমস্ত পরিবর্তনগুলো ছেলে-মেয়েকে মূলস্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। যেমন-

নেশা করার প্রবণতা
অবাধ যৌনতা
অপরাধ প্রবণতা
ভূল পদক্ষেপ নেওয়া/আত্মহত্যার প্রবণতা
বাবা মায়েরা কি করবেন

বয়ঃসন্ধির সন্তানের নানা সমস্যা, পড়াশোনার খুঁটিনাটি এসব নিয়ে বাবা-মায়েরা উদ্বিপ্ন। কীভাবে সব দিক সামলাবেন? সে নিয়ে ভিড় করছে হাজারো চিন্তা?

আপনার চিন্তার মুক্তি ঘটাতে সমস্যাগুলোকে আসুন একটু সহজ করে ভাবি-

আপনার সন্তান আস্তে আস্তে প্রাপ্তবয়স্ক হতে চলেছে, তাই ওর কাজে অকাজে অযথা বকাবকি করবেন না;
সন্তানের কাজ বা জীবনযাত্রা সম্পর্কে আপনার কোনও বক্তব্য থাকলে সহজ আলোচনার মাধ্যমে ওকে বুঝিয়ে বলুন;
ওর ভালো কাজের প্রশংসা করুন। প্রয়োজনে ওর ভালো কাজের জন্য ওকে ছোটখাটো উপহার দিন, এতে ও উৎসাহিত হবে;
বাড়ির যে কোনও ছোট বড় সিদ্ধান্তে ওর মতামত জানতে চান। এতে ও নিজের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হবে;
বাড়ির গ্যাস লেখানো, ইলেকট্রিক বিল জমা দেওয়ার মতো ছোটখাটো দায়িত্ব ওকে দিন। এতে ওর যেমন ভালো লাগবে, তেমনি আত্মবিশ্বাসও বাড়বে; নিজের হাত খরচ, মোবাইলের বিল ইত্যাদির ব্যায়ভার বহন করার জন্য ওকে আগ্রহী করে তুলুন। এর জন্য পার্ট টাইম কাজ করতে চাইলে ওকে উৎসাহ দিন।

এতে ও খরচখরচা সম্পর্কে দায়িত্বশীল হয়ে উঠবে। যে কোনও জিনিস কেনার জন্য অবুঝ বায়না করবে না;
নেশাগ্রস্ত হলে বা কোনও খারাপ সঙ্গে পড়লে বিষয়টি ধৈর্য ধরে সামলান। প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন;
আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও ধীরে ধীরে প্রাপ্তবয়স্ক হতে চলেছে। এই বয়সে ওর ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বন্ধু বা বান্ধবীর মাত্রা পেরিয়েও প্রেমিক বা প্রেমিকা হতে পারে। এসব বিষয়ে অযথা ইন্টারফেয়ার করবেন না। এটা ওর একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। তাই নিজেকে সামলে ওঠার দায়িত্বটা ওর উপরে ছেড়ে দিন।

সবশেষে বলব, আপনার সন্তানের শৈশবে আপনি ছিলেন সব থেকে কাছের বন্ধু। আজও পৃথিবীতে আপনি যে ওর সব থেকে আপনজন ওকে সেটা বোঝানোর দায়িত্ব আপনার, তবে সময় বদলাবার সঙ্গে সঙ্গে চাহিদা, চিন্তাভাবনা, ব্যক্তিগত মতামত এগুলো বদলায়। তাই আপনার সঙ্গে ওর মত মিলছে না বলেই যে ও বখে গেছে এমনটা নয়। এটা আসলে জেনারেশন গ্যাপ। যে গ্যাপ আপনার বয়ঃসন্ধির সময়েও ছিল। আজও আছে। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের চিস্তাভাবনাকে বদলান। চারপাশে ঘটে চলা ছোট বড় যে কোনও ঘটনা/বিষয় সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকুন। দেখবেন জীবনটা সহজ হয়ে উঠবে। সম্পর্ক গুলোও সুন্দর হয়ে উঠবে।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top